Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
জাতীয়

ঈদে স্বপ্নের ঘরে ফেরা হলো না কালামের, কফিনে গ্রামে ফিরল পুরো পরিবার

বাংলা টিভি ডেস্ক: কোরবানির ঈদে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গ্রামের নতুন ঘরে ফেরার স্বপ্ন ছিল মো. কালামের। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই ভয়াবহ গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে একে একে নিভে গেছে পুরো পরিবার। কালামের পর একে একে স্ত্রী ও তিন সন্তান গ্রামের বাড়ি ফিরেছেন কফিনবন্দি হয়ে। একই পরিবারের পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারি আর প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামের পরিবেশ।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন কালাম। জীবিকার তাগিদে ভ্রাম্যমাণভাবে সবজি বিক্রি করতেন তিনি। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার উত্তর ভুঁইগড় গিরিধারা এলাকার ৬ নম্বর সড়কে শাহজাহান মিয়ার মালিকানাধীন একটি ৯ তলা ভবনের নিচতলার পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন।

দীর্ঘ ৩০ বছরের সংগ্রামে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভ্রাম্যমাণভাবে সবজি বিক্রি করে গ্রামের বাড়িতে একটি পাকা ঘর নির্মাণ করেছিলেন কালাম। তবে ছাদের কাজ এখনও শেষ হয়নি। তবুও সেই ঘরেই পরিবার নিয়ে ঈদ করার প্রস্তুতি চলছিল।

গত রোববার (১০ মে) বাসার গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের উত্তর কনকদিয়া গ্রামের চান্দে আলীর ছেলে মো. কালাম (৪৫), তার স্ত্রী সায়মা বেগম (৩৫), দুই মেয়ে মুন্নি (১০) ও কথা (৪), এবং একমাত্র ছেলে মুন্না (৭) গুরুতর দগ্ধ হন। পরে তাদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার মারা যান মো. কালাম। এরপর বুধবার মারা যায় ছোট মেয়ে কথা। বৃহস্পতিবার সকালে মারা যায় ছেলে মুন্না এবং দুপুরে মারা যায় বড় মেয়ে মুন্নি। সর্বশেষ শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান স্ত্রী সায়মা।

একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের এমন করুণ মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ উত্তর কনকদিয়া গ্রাম। স্থানীয়রা বলছেন, কালাম ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। অল্প আয়েও পরিবারের জন্য নিরলস পরিশ্রম করতেন। গ্রামের বাড়িতে নিজের একটি ঘর নির্মাণ ছিল তার বহুদিনের স্বপ্ন।

গত সোমবার গ্রামের বাড়িতে কালামের দাফন সম্পন্ন হয়। আর শনিবার সকালে ঢাকায় থাকা স্ত্রী ও সন্তানদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। সকাল ১০টায় জানাজা শেষে কালামের কবরের পাশেই স্ত্রী ও সন্তানদের দাফন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button