Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
গ্রাম বাংলাদেশবাংলা

৪৮ লাখ টাকা দিয়েও বাঁচানো গেল না তছিরকে, লিবিয়ায় নির্যাতনে মৃত্যু

মাদারীপুর প্রতিনিধি: ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের নির্যাতনে প্রাণ গেছে মাদারীপুরের এক যুবকের। প্রায় ৪৮ লাখ টাকা নেওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি রাজৈর উপজেলার তছির ফকিরকে।

বুধবার (১৩ মে) তার মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে আহাজারিতে ভেঙে পড়ে পরিবার।

নিহত তছির ফকির মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ঘোষালকান্দি গ্রামের কালু ফকিরের ছেলে। দেশে একটি ছোট চায়ের দোকান চালিয়ে স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে কোনোমতে চলছিল তার সংসার। পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় আট মাস আগে ইতালি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

স্বজনদের অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী পূর্ব স্বরমঙ্গল গ্রামের রফিকুল ইসলাম বাঘা নামে এক মানবপাচারকারী দালাল ইতালি পাঠানোর কথা বলে তছিরকে লিবিয়ায় পাঠায়। এজন্য প্রথমে ২৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পরই মাফিয়া চক্রের হাতে বন্দী হন তছির। পরে শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে আরও প্রায় ২০ লাখ টাকা আদায় করা হয়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের একপর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তছিরকে লিবিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার ব্যয় দেখিয়ে আরও দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা নেয় দালালচক্র। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাসপাতালের আইসিইউতেই মারা যান তিনি। আজ বুধবার লিবিয়ায় অবস্থানরত পরিচিতজনদের মাধ্যমে মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছায়।

অভিযোগ রয়েছে, মৃত্যুর পর লাশ গুম করার চেষ্টাও করেছে মানবপাচারকারী চক্র।

নিহতের স্ত্রী ইসমত আরা বলেন, আমার স্বামীকে বিদেশে পাঠিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। এখন আমি আমার স্বামীর লাশ দেশে ফেরত চাই এবং জড়িতদের বিচার চাই।

নিহতের মেয়ে সুরাইয়া আক্তার বলেন, আমার বাবা ছাড়া উপার্জন করার মতো আর কেউ ছিল না। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাই, বাবার লাশ দেশে আনা হোক এবং আমাদের পরিবারকে সহযোগিতা করা হোক।

এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দালাল রফিকুল ইসলাম বাঘা ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ পথে বিদেশ পাঠানোর নামে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে একটি দালালচক্র। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া এমন ঘটনা বন্ধ হবে না বলেও মনে করছেন তারা।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button