
বাংলা টিভি ডেস্ক: খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন ইমামুল হাসান হেলাল, যিনি ‘পিচ্চি হেলাল’ নামে পরিচিত। বুধবার রাতে তিনি বলেন, টিটনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ভালো এবং তাকে তিনি বন্ধু হিসেবেই দেখতেন।
হেলালের অভিযোগ, কিছু অনলাইনভিত্তিক গণমাধ্যম বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে তার নাম এই ঘটনায় জড়াচ্ছে, যা প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার একটি কৌশল হতে পারে। তিনি দাবি করেন, তার কোনো কিশোর গ্যাং বা সন্ত্রাসী বাহিনী নেই; বরং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে।
টিটন হত্যার প্রসঙ্গে হেলাল জানান, জীবিত অবস্থায় টিটন তার কাছে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে হুমকি পাওয়ার কথা বলেছিলেন। বিশেষ করে সানজিদুল ইসলাম ইমন ওরফে ক্যাপ্টেন ইমনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন এবং নিজের জীবনের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। হেলাল আরও অভিযোগ করেন, এই হত্যাকাণ্ডে ইমনের স্ত্রীরও সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।
তার মতে, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। টিটনকে পরিকল্পিতভাবে ওই এলাকায় ডেকে নেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি মনে করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মোবাইল কললিস্ট ও ডাটা ফরেনসিক বিশ্লেষণ করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তা স্পষ্ট হবে।
মামলার এজাহার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হেলাল। তার দাবি, সাক্ষ্য ও তথ্য সংগ্রহে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে এবং ঘটনার পরদিনই এজাহারে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে, যা সন্দেহজনক। তিনি আরও বলেন, ঘটনাকে অন্যদিকে ঘোরাতে বিকল্প গল্প তৈরি করা হচ্ছে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চললেও তা কার্যকরভাবে দমন করা হয়নি। এতে অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে।
সবশেষে হেলাল বলেন, তিনি দেশে থেকেই আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তার মতে, সত্য উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ফরেনসিক পরীক্ষা ও গোয়েন্দা সংস্থার কার্যকর তদন্ত জরুরি।



