Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
গ্রাম বাংলাঅন্যান্যঅপরাধদেশবাংলাবাংলাদেশ

কুষ্টিয়ায় ‘পীর হত্যা’ মামলায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

বাংলা টিভি ডেস্ক: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ‘পীর’ শ্রী শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান হত্যা মামলায় দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার (২৭ এপ্রিল) আলমগীর হোসেন (১৬) নামে ওই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। সে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা তছিকুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।

পরিবারের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে আলমগীরকে থানায় নেওয়া হয়েছিল। তার বাবা তছিকুল ইসলাম বলেন, রাতে পুলিশ বাড়িতে এসে আমার ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, হামলার ঘটনার পর অনেকেই সেখানে দেখতে গিয়েছিল, আমার ছেলেও গিয়েছিল। এখন তাকে আসামি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আলমগীরের খালা রোজিনা খাতুন জানান, রাতে আলমগীর ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। পুলিশ মূলত তার চাচাতো ভাই শাওনকে গ্রেপ্তার করতে এলে তাকে না পেয়ে আলমগীরকে ঘর থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, কথাবার্তার শব্দে আলমগীরের মা আলিয়া খাতুন ঘুম থেকে জেগে উঠে বাইরে এসে দেখেন, পুলিশ তার ছেলেকে ধরে রেখেছে। জিজ্ঞাসা করলে পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় নেওয়া হচ্ছে এবং সকালে নিয়ে যেতে বলা হয়। কিন্তু পরদিন থানায় গেলে তাকে হত্যা মামলার আসামি বলা হয়।

রোজিনা খাতুন আরও দাবি করেন, ঘটনার দিন আলমগীর ঘটনাস্থলে ছিল না। সে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরে মাকে কাজে সাহায্য করছিল। পরে দরবারে হামলার খবর পেয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যায়। প্রকৃত অপরাধীদের অনেকে চিহ্নিত হলেও তাদের গ্রেপ্তার না করে আমার নাবালক ভাতিজাকে আটক করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা বলেন, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আলমগীরকে শনাক্ত করা হয়েছে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল দুপুরে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের দরবারে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীদের আঘাতে শামীম জাহাঙ্গীর মারা যান। হামলার পর দরবারে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

ঘটনার তিন দিন পর ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button