Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
বাংলাদেশঅন্যান্য

গ্যাস সংকটে বন্ধ হয়ে আছে যমুনা সার কারখানা

বাংলা টিভি ডেস্ক: গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে আছে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানা। এতে প্রতিদিন লোকসান হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। বছরের বেশিরভাগ সময়ই কারখানা বন্ধ থাকায় মূল্যবান যন্ত্রাংশগুলো মরিচা ধরে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। চলতি মৌসুমে ইউরিয়া সার সংকটের আশঙ্কাও করছে কৃষকরা। দীর্ঘ দিন ধরে কারখানা বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে কারখানার সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার শ্রমিক পরিবার।

কারখানা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে তারাকান্দি এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় যমুনা সার কারখানা। এ কারখানাটি বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প সংস্থা নিয়ন্ত্রণাধীন। কারখানার নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৪২-৪৩ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন সার উৎপাদন করছিল কারখানাটি। কিন্তু গ্যাসের চাপ স্বল্পতা ও বিভিন্ন ত্রুটির কারণে উৎপাদন কমে ১ হাজার ২০০ টনে নেমে আসে। জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও উত্তরাঞ্চলের রাজবাড়ী ও উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলাসহ ২০টির বেশি জেলার আড়াই হাজার ডিলারের মাধ্যমে যমুনার সার সরবরাহ করা হয়।

২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রথম তিতাস গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়। পরে দীর্ঘ ১৩ মাস পর ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গ্যাস সংযোগ পেয়ে পুনরায় উৎপাদনে ফিরে কারখানাটি। আবার ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৭টার পর অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাসের চাপ কম হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। আবার মাঝে মাঝে গ্যাস সংযোগ পেয়েও বেশি দিন চালু থাকেনি এ কারখানাটি। গ্যাস-সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বছরের বেশির ভাগ সময়ই বন্ধ থাকে সার কারখানাটি।

এদিকে সবশেষ চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস-সংকটের কারণে আবারও বন্ধ হয়ে পড়ে আছে বৃহৎ দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সারকারখানা। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় সার সংকট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। দ্রুত গ্যাস সংযোগ দিয়ে বৃহৎ এ শিল্প কারখানাটি সচল রাখতে না পারলে পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে জানায় কারখানা কর্তৃপক্ষ।

শামসুল হক, আব্দুর রাজ্জাক, ছোবাহান আলী, আফজাল হোসেনসহ একাধিক শ্রমিক বলেন, ‘এই সার কারখানাটি বছরের বেশির ভাগ সময়ই নানা কারণে বন্ধ থাকে। ফলে আমাদের কোনো কাজ থাকে না। ট্রাকগুলোও পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। আমাদের কাজ না থাকায় পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি। অতি দ্রুত কারখানাটি চালুর দাবি জানাই।’

এ বিষয়ে যমুনা সার কারখানার উপ প্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) মো. ফজলুল হক বলেন, ‘চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস-সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে আছে কারখানাটির। কবে নাগাদ গ্যাস পাওয়া যাবে বা উৎপাদনে ফিরবে কারখানাটি, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমাদের উৎপাদনের সব প্রস্তুতি আছে। গ্যাস সংযোগ পেলেই উৎপাদনে ফিরতে পারব।’

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button