বিয়ে না দেওয়ায় দাদি, ফুফু ও প্রতিবেশীকে হত্যা করেন যুবক

বাংলা টিভি ডেস্ক: ফরিদপুরে পারিবারিক কলহ ও বিয়ে না দেওয়ার ক্ষোভে দাদি এবং ফুফুসহ তিনজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ঘাতক যুবক আকাশ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম।
তিনি জানান, সোমবার রাতে গদাধরডাঙ্গী গ্রামের হারুন মোল্লার ছেলে আকাশ মোল্লা (২৮) তার দাদি আমিনা বেগম (৮০) ও ফুফু রাহেলা বেগমকে (৫৫) কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় প্রতিবেশী কাবুল হোসেন (৪৯) এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় আকাশ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
ঘটনার পর রাতেই ঘাতক আকাশকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে যৌথ অভিযান শুরু করে পুলিশ ও র্যাবের একাধিক দল। একপর্যায়ে মঙ্গলবার সকালে গ্রামের একটি কলাবাগান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদালটিও উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার আকাশ নানা ধরনের বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিচ্ছে। তবে স্থানীয়দের তথ্যমতে, আকাশ বেশ কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। স্থানীয় টিবি হাসপাতালে চাকরি হারানোর পর সে মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়ে। মূলত পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং পরিবার থেকে বিয়ে না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে সে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে।
দ্রুত আসামিকে আইনের আওতায় আনার বিষয়টি উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, ‘নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জেলা পুলিশ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে মাত্র ১০ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার এবং হত্যায় ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।’
এ ঘটনায় নিহত কাবুল হোসেনের স্ত্রী কোহিনুর বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অন্যদিকে, গ্রেপ্তার আকাশ মোল্লাকে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।



