Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

এআই চ্যাটে কিশোররা কী আলোচনা করছে, দেখতে পারবেন অভিভাবক

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: মেটা জানিয়েছে, কিশোর ব্যবহারকারীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সহকারীর সঙ্গে কী ধরনের বিষয় নিয়ে কথা বলছে—এখন তা অভিভাবকেরা দেখতে পারবেন।

মার্ক জাকারবার্গের কোম্পানি মেটা তাদের মালিকানাধীন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও মেসেঞ্জারে নতুন এই নজরদারি সুবিধা চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এতে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্কও তৈরি হয়েছে।

মেটা জানিয়েছে, তাদের ‘টিন অ্যাকাউন্ট’ তদারকি ব্যবস্থায় নতুন একটি ফিচার যুক্ত হচ্ছে। এর মাধ্যমে অভিভাবকেরা জানতে পারবেন তাদের সন্তানরা এআই সহকারীর সঙ্গে কোন ধরনের বিষয়ে কথা বলছে। এই তথ্য দেখা যাবে ‘ইনসাইটস’ নামে একটি আলাদা ট্যাবে।

এই সুবিধা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও মেসেঞ্জার—এই তিনটি প্ল্যাটফর্মেই কাজ করবে। এখানে নির্দিষ্ট বার্তা দেখা যাবে না, বরং আলোচনার বিষয়গুলোকে বড় বড় ক্যাটাগরিতে ভাগ করে দেখানো হবে, যেমন—পড়াশোনা, বিনোদন, লেখা, স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতা।

অভিভাবকেরা চাইলে কোনো একটি বিষয়ে ক্লিক করে কিছু অতিরিক্ত তথ্য দেখতে পারবেন। তবে সেটিও সীমিত থাকবে। মেটা বলছে, ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা বজায় রেখেই এই তথ্য দেখানো হবে এবং এটি সর্বশেষ সাত দিনের কথোপকথনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে।

উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিভাগে শারীরিক ফিটনেস, অসুস্থতা বা মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত আলোচনাগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

এই ফিচার এমন সময়ে আনা হচ্ছে যখন মেটা শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে সমালোচনার মুখে রয়েছে। সম্প্রতি শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত মামলায় প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অভিযোগ উঠেছে যে তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো যথেষ্ট নিরাপদ নয়।

এর আগে অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা যায়, মেটার এআই-চালিত ভার্চ্যুয়াল সঙ্গীরা কখনো কখনো অনুপযুক্ত কথোপকথনে জড়িয়ে পড়তে পারে—এ তথ্য প্রতিষ্ঠানটি আগে থেকেই জানত বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে মেটা কিশোরদের জন্য এআই ক্যারেক্টার ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে এবং অভিভাবকদের জন্য কিছু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করেছে।

তবে শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা ফেয়ারপ্লের নির্বাহী পরিচালক জশ গোলিন বলেছেন, এই ধরনের ফিচার মূল সমস্যার সমাধান করে না। তার মতে, এতে অভিভাবকদের ওপর অতিরিক্ত নজরদারির চাপ পড়ছে, কিন্তু প্ল্যাটফর্ম নিরাপদ করার মৌলিক কাজটি যথেষ্টভাবে করা হচ্ছে না।

সব মিলিয়ে, নতুন এই উদ্যোগকে কেউ নিরাপত্তার পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, কেউ আবার এটিকে গোপনীয়তা নিয়ে নতুন বিতর্কের শুরু হিসেবে দেখছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button