
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় সাত মাস বয়সী এক শিশুকে ডোবায় ফেলে হত্যার অভিযোগে বাবা ও দাদির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পূর্বকান্দা এলাকায়, যা স্থানীয়ভাবে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ মানিকদী পূর্বকান্দা এলাকার একটি হাওরসংলগ্ন ধানের জমির পাশের ডোবা থেকে শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা মেরাজ মিয়া এবং শিশুটির দাদি রাবেয়া বেগম ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মেরাজ মিয়া মাদকাসক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক অশান্তি চলছিল। প্রায় তিন বছর আগে তিনি তাসলিমা বেগমের সঙ্গে বিয়ে করেন এবং তাদের ঘরে এই শিশুটির জন্ম হয়। দাম্পত্য ও পারিবারিক বিরোধের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুদিন আগে শিশুটিকে দাদি রাবেয়া বেগম চিকিৎসার কথা বলে নিজের কাছে নিয়ে যান। পরে শিশুটির মাকে জানানো হয় যে শিশুটিকে তার বাবা বিক্রি করে দিয়েছেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ ও উত্তেজনা তৈরি হয়।
পরবর্তীতে অভিযুক্ত মেরাজ মিয়া শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানান যে তিনি শিশুটিকে ডোবায় ফেলে দিয়েছেন। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ সেখানে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
শিশুটির মা তাসলিমা বেগম এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তার সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।



