
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া এক সাক্ষ্যে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা ও ফোনালাপের বিস্তারিত তথ্য।
জুনাইদ আহমেদ পলক–এর নাম উল্লেখ করে এক বিটিসিএল কর্মকর্তা জবানবন্দিতে বলেন, সাবমেরিন ক্যাবল পর্যায়ে ইন্টারনেট বন্ধের সময় তিনি সরাসরি ফোন করে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সময় জানতে চেয়েছিলেন এবং দ্রুত কার্যকর করতে নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ দেওয়া জবানবন্দিতে ওই সাক্ষী বলেন, তিনি তখন বিটিসিএল–এ দায়িত্বে ছিলেন এবং সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও কাজ করছিলেন।
জবানবন্দি অনুযায়ী, ১৮ জুলাই রাতে বিটিআরসির একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রথমে আইআইজি ও আইটিসি পর্যায়ে ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে ধাপে ধাপে সাবমেরিন ক্যাবল পর্যায়েও সংযোগ বন্ধের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সাক্ষী জানান, প্রথমে বিষয়টি শুনে তিনি বিস্মিত হন, কারণ সাবমেরিন ক্যাবল পর্যায়ে আগে কখনো ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়নি। পরে তিনি সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের মাধ্যমে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেন।
তিনি আরও বলেন, ওই রাতেই প্রতিমন্ত্রী পলক তাকে ফোন করে দ্রুত সাবমেরিন ক্যাবল বন্ধের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
জবানবন্দিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পরে আবার ইন্টারনেট চালু ও বন্ধ করার একাধিক নির্দেশনা আসে, যা একই দিনে কয়েক দফা পরিবর্তিত হয়।
এই মামলায় সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়–সহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়।
সব মিলিয়ে সাক্ষ্যে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ইন্টারনেট শাটডাউন সিদ্ধান্ত এবং তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ের নির্দেশনা ও চাপের একটি বিস্তারিত চিত্র উঠে এসেছে।



