
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় গ্রাম্য সালিশে প্রকাশ্যে কিল-ঘুসি, লাথি ও লাঠি দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক নির্যাতন চালানোর অপমান ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে নাজমা আক্তার (২৫) নামে এক তরুণীর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে।
নাজমা শিবালয় মডেল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা খালেক পেয়াদার মেয়ে। জীবিকার তাগিদে তিনি একটি তালা তৈরির কারখানায় কাজ করতেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নাজমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ তুলে ১৭ এপ্রিল রাতে তার বাবার বাড়িতে একটি গ্রাম্য সালিশ বসানো হয়। স্থানীয় মাতব্বর আজিজ খানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে নাজমা ও এক যুবককে সবার সামনে মারধর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিল-ঘুসি, লাথি ও লাঠি দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার একটি ভিডিও রয়েছে। পরদিন সকালে নাজমা কর্মস্থলে গেলেও বিকালে বাড়ি ফিরে আসেন। পরে সন্ধ্যার দিকে নিজ ঘরে আত্মহত্যা করেন। স্বজনদের দাবি, প্রকাশ্যে অপমান ও শারীরিক নির্যাতনের মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি এ পথ বেছে নেন নাজমা।
নাজমার মা নাসিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, সবার সামনে আমার মেয়েকে মারধর করা হয়েছে। এই অপমান সে সহ্য করতে পারেনি। আমি এর বিচার চাই।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সালিশে জড়িতরা প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না।
শিবালয় থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মানোবেন্দ্র বালো বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে।



