
বাংলা টিভি ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যেদিন গণভোটের গণরায় অস্বীকার করা হয়েছে, সেদিন থেকেই নতুন ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, অতীতের ফ্যাসিবাদের চেয়েও আগামীর ফ্যাসিবাদ আরো ভয়াবহ হবে।
শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয় আল-ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ‘জেলা আমির সম্মেলন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে দলের নায়েবে আমিররা, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলরা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং সাংগঠনিক ৭৯টি জেলা ও মহানগরের আমির ও সেক্রেটারিরা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি দলের প্রতি আহবান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মানুষ ভুল করে, আমরাও করতে পারি। জাতি মনে করে, আপনারা স্পষ্ট ভুলের মধ্যে নিমজ্জিত, ভুল থেকে বের হয়ে আসুন। প্রথমে গণভোটের রায় মেনে নিন। তার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নিন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব। কিন্তু জনগণের ওপর ফ্যাসিজম কায়েম করার জন্য সামান্য কিছু ময়লা-আবর্জনা যদি থাকে, সেটা আমরা মেনে নেব না। এই সংসদের ৩০০ মানুষ যদি দেশবাসীর জন্য দায়িত্বশীল হয়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশ বদলে যাবে ইনশাআল্লাহ।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি নিরপেক্ষ বডি গঠনের জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হলেও তা ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এতে দলীয় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। দলীয় ভিত্তিতে বিচারক নিয়োগের ফলে বিচারপতি খায়রুল হক, বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিক এবং শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ বিচারপতি ইনায়েতুর রহিমের মতো ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের নিয়োগের কুফল দেশবাসী ভোগ করছে বলেও দাবি করেন। একই সঙ্গে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) গঠনের অধ্যাদেশও ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই সংকট মোকাবেলায় সংসদ ও সংসদের বাইরে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা উচিত ছিল। কিন্তু সে ধরনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন। বরং বলা হচ্ছে, দেশে তেলের কোনো সংকট নেই, কিছু লোক তেল মজুদ করে চোরাইপথে বিক্রি করছে।’
এ ধরনের বক্তব্যকে সরকারের ব্যর্থতা উল্লেখ ডা. শফিক বলেন, ‘এতে ভুক্তভোগী মানুষের কষ্ট আরো বাড়ছে। জনগণ কি জানে না কোথা থেকে তেলের ড্রাম উদ্ধার হচ্ছে? জ্বালানি সংকট না থাকলে প্রতিদিন ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং কেন হচ্ছে’ সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
জামায়াত আমির আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের দ্রুত পরিবর্তন করা হচ্ছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে এবং মানবাধিকার কমিশনের সদস্যরা পদত্যাগ করে খোলাচিঠি দিয়েছেন।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘বিচারকদের স্বাধীন বলা হলেও তাঁদের ওপর হস্তক্ষেপ করে ২৮ জন বিচারককে শোকজ করা হয়েছে। অথচ তাঁরাই বলেন, বিচারকরা স্বাধীন। যদি তাঁরা স্বাধীনই হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁদের ওপর আপনারা ছড়ি ঘোরান কেন?’
চাঁদাবাজির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘তাঁরা কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং হেলথ কার্ডও দেবেন এটা ভালো, কিন্তু সে জায়গায়ও দলীয়করণ। আবার এটাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি হচ্ছে। আগের চেয়ে চাঁদাবাজি দিন দিন বাড়ছে।’



