Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
গ্রাম বাংলাদেশবাংলা

ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং, স্থবির জনজীবন

বাংলা টিভি ডেস্ক: রাজবাড়ী জেলায় বর্তমানে গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভয়াবহ লোডশেডিং। যা সাধারণ মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।

দিনরাত মিলিয়ে ১১/১২ ঘণ্টা বিদুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে গ্রাহকরা। ওজোপাডিকোর পাশাপাশি পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরাও লোডশেডিং ভোগান্তিতে পড়েছে। তীব্র গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা, বিশেষ করে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে এ অঞ্চলের পোলট্রি খামারিরা মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়েছেন। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে তাদের জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এদিকে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে তারা চাহিদা মতো তেল পাচ্ছে না। যার ফলে তার এই শিল্প মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়ছে। এছাড়া আমন ও বোরে চাষে সেচ কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র গুলোতে প্রভাব পড়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ কম যোগ হচ্ছে। অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্র জ্বালানি তেলের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। যার ফলে এই লোডশেডিং শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

সজ্জনকান্দা এলাকার বাসিন্দা আইরিন সুলতানা বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে রাত/দিন মিলে ১ ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং হচ্ছে। আমার ছোট বাচ্চা নিয়ে এই লোডশেডিং এর মধ্যে গরমে খুব কষ্ট হয়। গরমে বাচ্চা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে।

এসএসসি পরীক্ষার্থী পিয়াল কুন্ডু বলেন, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে আমার এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। আর মাত্র ৩ দিন বাকি রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ১ ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং হয়। ভ্যাপসা গরমে পড়তে কষ্ট হয়। আবার সন্ধ্যার পর পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। বাসায় আইপিএস নেই। বিদ্যুৎ চলে গেলে পড়তে খুব কষ্ট হয়, পড়ালেখাতেও ব্যাঘাত ঘটছে।

রাজবাড়ী বাজারের ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বলেন, গত ৫/৬ দিন ধরে ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ গেলে ১ ঘণ্টা পর আসে। আমার কম্পিউটার ও ফটোকপির ব্যবসায়। বিদ্যুৎ চলে গেলে বসে থাকতে হয়। বিদ্যুৎ ঠিকমতো না থাকার কারণে ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে।

রাজবাড়ী ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন-অর-রশিদ বলেন, রাজবাড়ীতে ওজোপাডিকোর গ্রাহক রয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার। এই ১ লাখ ২৫ হাজার গ্রাহকদের জন্য গড়ে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে গড়ে কখনো ২০ মেগাওয়াট, আবার কখনো ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। যখন ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছি তখন আমাদের ১ ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। যখন ৩০ মেগাওয়াট বা তার বেশি পাচ্ছি তখন ২/৩ ঘন্টা বা তার থেকে বেশি সময় পর লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। মূলত ঘাটতি মেটাতে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক সংকটের প্রভাবে চাহিদার তুলনায় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কম পাওয়ার কারণে জেলায় লোডশেডিং বেড়েছে।

রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম প্রকৌশলী গোলাম আহম্মদ বলেন, জেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার। এই গ্রাহকদের জন্য আমাদের ৫৫/৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে বৈশ্বিক সংকটের কারণে আমরা চাহিদার থেকেও কম পাচ্ছি। কখনো ৫০ শতাংশ পাচ্ছি, কখনো ৬০ শতাংশ পাচ্ছি, আবার কখনো ৭০ শতাংশ পাচ্ছি। যখন কম পাচ্ছি তখন আমাকে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button