
নাটোরের বড়াইগ্রামে নির্মাণাধীন একটি পাওয়ার গ্রিডে চারজন নিরাপত্তাকর্মীকে বেঁধে রেখে প্রায় ২ কোটি টাকার মালামাল লুটের ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পাশাপাশি গাজীপুরের শ্রীপুরের গভীর জঙ্গল ও গজারী বনে অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া প্রায় দেড় কোটি টাকার মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাব।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন রোকন মোল্লা, শিহাব উদ্দিন, রুহুল আমিন, আব্দুস সালাম, তসলিম প্রামাণিক, হযরত আলী (মন্টু মোল্লা), বাছেদ মন্ডল, সৈকত, উজ্জ্বল মোড়ল, হারুন অর রশীদ, জাহাঙ্গীর আলম, নায়েব আলী ও সাইফুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে প্রায় ৩৫০টি ব্যাটারি সেল, ১০টি মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম, যার আনুমানিক মূল্য সোয়া কোটি টাকা। এর আগে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এলাকা থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি ট্রাকও জব্দ করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রুহুল আমিন ও সৈকত পৃথক দুটি ডাকাত দলের নেতৃত্ব দিতেন। জেল থেকে মুক্তির পর তারা পরিকল্পিতভাবে একত্রিত হয়ে বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় নির্মাণাধীন অরক্ষিত পাওয়ার গ্রিডে ডাকাতির ছক কষেন। গত ২৫ মার্চ সংঘবদ্ধভাবে নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে রেখে ট্রাকে মালামাল লুট করা হয়।
এ ঘটনায় পরদিন থানায় মামলা দায়েরের পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও স্থানীয় থানা পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে টানা অভিযান চালিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।



