সুদানে যুদ্ধের মধ্যেও মিনিটে জন্ম নিচ্ছে তিনটি শিশু

সুদানে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাত এখন তৃতীয় বছরে গড়িয়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মধ্যেই দেশটিতে প্রতি মিনিটে অন্তত তিনটি শিশু এমন এক অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে জন্ম নিচ্ছে—যেখানে তাদের জন্ম নেওয়ার কথা নয় বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৬ লাখ শিশু জন্ম নিয়েছে সুদানে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ হাজার শিশু জন্ম নিচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে, যেখানে লাখো মানুষ দিনে মাত্র একবার খাবার জোগাড় করতে পারছে। অনেক শিশু জন্ম নিচ্ছে ভিড়াক্রান্ত আশ্রয়শিবিরে, ভেঙে পড়া বা অপ্রতুল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কিংবা পালিয়ে বেড়ানো পরিবারের মধ্যে—যা তাদের জীবন শুরু থেকেই ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
এই সংঘাতের সূত্রপাত ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল, সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান ‘হেমেদতি’ দাগালোর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে। সময়ের সঙ্গে তা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে—যা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে।
নিরবচ্ছিন্ন সহিংসতা ও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলার কারণে সুদানের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। প্রায় ৮০ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন অচল। যেগুলো চালু আছে, সেগুলোতেও ওষুধ, জনবল ও জ্বালানির তীব্র সংকট রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অন্তত ২০০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে মাতৃস্বাস্থ্যের ওপরও। প্রসবকালীন মাতৃমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে—২০২২ সালে প্রতি ১ লাখ জীবিত জন্মে যেখানে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২৬৩, তা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৫-এ।
সম্প্রতি পূর্ব দারফুরের আল-দায়েন টিচিং হাসপাতালে এক ড্রোন হামলায় ১৩টি শিশুসহ অন্তত ৬৪ জন নিহত হন, ফলে হাসপাতালটি সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়ে। এমন হামলা মা ও নবজাতকদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার পথ আরও সংকুচিত করছে।
এই প্রেক্ষাপটে ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—যাতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয় এবং জরুরি সহায়তা দ্রুত সংকটাপন্ন মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়।



