ধ্রুভ রাঠি আর দেশভক্তদের সমালোচনা রোধে নতুন আইন করতে যাচ্ছে মোদি

ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতাদের ওপর নতুন করে নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্যোগ ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল The Deshbhakt এবং ধ্রুভ রাঠি-এর মতো নির্মাতারা, যারা রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কাজ করেন, তাদের কনটেন্টও এই প্রস্তাবিত নিয়মের আওতায় আসতে পারে।
ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্প্রতি আইটি বিধিমালায় সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যারা আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত সংবাদমাধ্যম নয় কিন্তু অনলাইনে সংবাদধর্মী কনটেন্ট তৈরি করেন, তাদেরও সংবাদমাধ্যমের মতো নির্দিষ্ট আচরণবিধি অনুসরণ করতে হবে।
এই প্রস্তাব অনুযায়ী:
- ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোকে সরকারি নির্দেশ আরও কঠোরভাবে মানতে হবে
- ‘সেফ হারবার’ সুবিধা বজায় রাখতে হলে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে
- প্রয়োজনে দ্রুত সময়ের মধ্যে (কখনো ৩ ঘণ্টার মধ্যেই) কনটেন্ট সরাতে হতে পারে
সরকারের দাবি, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে ভুয়া খবর, ঘৃণামূলক বক্তব্য ও ডিপফেক মোকাবিলা করা সহজ হবে। তবে সমালোচকরা ভিন্ন মত দিচ্ছেন।
আকাশ ব্যানার্জি মনে করেন, এ ধরনের নিয়ম কনটেন্ট নির্মাতাদের মধ্যে ভয় তৈরি করবে এবং তারা ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’-এর দিকে ঝুঁকবে। তার মতে, বিদ্যমান আইন থাকা সত্ত্বেও ভুয়া খবর কমেনি, বরং সমালোচনামূলক কনটেন্টই বেশি সরানো হচ্ছে।
এদিকে আইটি আইন ৬৯এ ধারা ব্যবহার করে ইতোমধ্যে কিছু অ্যাকাউন্ট ব্লক করার অভিযোগ উঠেছে। যেমন, ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্টের জন্য পরিচিত কিছু এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট পূর্ব নোটিশ ছাড়াই বন্ধ করা হয়, যা পরে আদালতের মাধ্যমে আংশিকভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
ডিজিটাল অধিকারকর্মী নিখিল পাহওয়া সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রস্তাব “গণ-সেন্সরশিপ অবকাঠামো” আরও শক্তিশালী করতে পারে। তার মতে, এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
অন্যদিকে সরকার বলছে, এখন শুধু সংবাদমাধ্যম নয়—সাধারণ মানুষও তথ্য ছড়াচ্ছে, তাই সবার জন্য একটি একীভূত নীতিমালা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, এই প্রস্তাব ভারতে ডিজিটাল স্বাধীনতা বনাম নিয়ন্ত্রণ—এই পুরনো বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, জনমত ও সমালোচনার মুখে সরকার কতটা পরিবর্তন আনে।



