Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
ধর্মঅন্যান্যগ্রাম বাংলাজাতীয়বাংলাদেশ

নারী হাফেজাকে সংবর্ধনা দিতে মাইক্রোবাসের বহর

বাংলা টিভি ডেস্ক: পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করে ২ বছরের মধ্যে হাফেজা হয়েছেন পঞ্চগড়ের চাকলাহাট এলাকার ফাতেমা আক্তার (১৪) নামের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। তাকে সম্মান জানাতে আয়োজন করা হয় সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠান। পরে মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল বহরের মাধ্যমে তাকে রাজকীয়ভাবে বাড়িতে নিয়ে যায় এলাকার মানুষ।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে পঞ্চগড় সদরের চাকলাহাট এলাকার হাবিবা জান্নাত মদিনাতুল উলুম বালিকা মাদ্রাসায় এ সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জানা গেছে, ফাতেমা আক্তার পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের বকশিপাড়া গ্রামের আব্দুল করিমের মেয়ে। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে ফাতেমা ওই মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। মাত্র দুই বছরের মধ্যেই সে কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করে হাফেজা হয়।

অনুষ্ঠানে ফাতেমাকে ফুলের মালা পরিয়ে তাকে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তুলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ অভিভাবকরা। এ সময় হাফেজার বাবা ও মাকেও সংবর্ধিত করা হয়। পরে একটি সুসজ্জিত মাইক্রোবাসে বসিয়ে কয়েকটি মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল বহরের মাধ্যমে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

এদিকে ফাতেমার গ্রামবাসীও তাকে বরণ করে নিতে বাড়ির সামনে রাস্তা থেকে বাড়ি পর্যন্ত গেট তৈরি করে। গ্রামের নারীরা ফুলের মালা দিয়ে তাকে বরণ করে নেন। পরে তাদের বাড়িতে আয়োজন করা হয় মিলাদ মাহফিল।

ফাতেমা আক্তার বলেন, আমাদের মাদ্রাসার শিক্ষকরা অনেক দক্ষ। তারা আমাদের খুব যত্নসহকারে পড়ান। এজন্যই আমি দুই বছরে কোরআনের হাফেজা হতে পেরেছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি বড় হয়ে একজন আলেমা হতে চাই।

ফাতেমার বাবা আব্দুল করিম বলেন, এই মাদ্রাসার পরিবেশ খুব ভালো। অল্প সময়ের মধ্যে আমার মেয়ে ৩০ পারা কোরআনের হাফেজা হয়েছে, এজন্য আমরা অনেক খুশি। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হাফেজ মো. আব্দুস সালাম বলেন, ২০২৩ সালে হাবিবা জান্নাত মদিনাতুল উলুম বালিকা মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ফাতেমা অত্যন্ত মেধাবী হওয়ায় দুই বছরেই কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করে হাফেজা হয়েছে। বর্তমানে মাদ্রাসায় ৬৫ শিক্ষার্থী রয়েছে। আগামী তিন-চার মাসের মধ্যে আরও চারজন শিক্ষার্থী হেফজ সম্পন্ন করবে।

চাকলাহাট কেপি আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ আর এম শহিদুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসাটিকে ধন্যবাদ জানাই। তারা নারীদের ইসলামিক শিক্ষা দিয়ে হাফেজা হিসেবে তৈরি করছে। আজকের অনুষ্ঠানে ফাতেমা সুন্দরভাবে কোরআন তেলাওয়াত করেছে। আমরা তার জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করি। আল্লাহ যেন তাকে কোরআনের খাদেম হিসেবে কবুল করেন এবং কোরআনের আলো গ্রামেগঞ্জে ছড়িয়ে দেওয়ার তাওফিক দেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button