
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ভিডিও ধারণ এবং পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, শেরপুর সরকারি ডিজে উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে সারিয়াকান্দি উপজেলার লক্ষিকোলা গ্রামের বাসিন্দা এরশাদ শিকদারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে এরশাদ কৌশলে ওই ছাত্রীকে শেরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায়।
সেখানে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সহযোগী কৌশিকের সহায়তায় তার আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়।
পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে ভিকটিমকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা দাবি করা হয়। একই সঙ্গে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে তাকে মানসিকভাবে চাপে রাখা হয়। ঘটনার একপর্যায়ে গত ২৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে ভিকটিম তার খালার বাড়িতে অবস্থানকালে তার ফেসবুক আইডিতে প্রবেশ করে ভিডিওটি প্রকাশ করে দেয় অভিযুক্তরা। মুহূর্তেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ভিকটিম ও তার পরিবারের জন্য চরম বিব্রতকর ও মানহানিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
এ ঘটনায় ভিকটিমের পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে শেরপুর থানা পুলিশ দ্রুত তদন্তে শুরু করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় এরশাদ শিকদার (১৯) এবং সুরাইয়া আক্তার (১৪) নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে মামলার অপর অভিযুক্ত কৌশিকসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা না পর্যন্ত এ অভিযান চলবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কারও ব্যক্তিগত বা আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঈনুদ্দিন বলেন, “ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতার হওয়া আসামীদের জেলা হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের আসামীদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।”



