ইরান যু/দ্ধে/র প্রভাবে কনডমের দাম বাড়তে পারে ভারতে

ইরান-বিরোধী ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রভাব কনডম উৎপাদন ও ওষুধ শিল্পেও পড়ছে। প্রধান সমস্যা হচ্ছে কাঁচামাল—বিশেষ করে পেট্রোকেমিক্যাল, অ্যামোনিয়া এবং সিলিকন অয়েল—এর সরবরাহ ব্যাহত হওয়া।
ভারতের কনডম উৎপাদন শিল্পের সূত্র জানাচ্ছে, অ্যামোনিয়ার দাম ৪০–৫০% বৃদ্ধি পেতে পারে, যার ফলে সিলিকন তেলের দামও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ল্যাটেক্স, যা কনডম এবং অন্যান্য পণ্যের প্রধান উপাদান, পেট্রোকেমিক্যাল নির্ভর। সরবরাহে ঘাটতি ও দাম বৃদ্ধির কারণে খুচরো বিক্রিতে প্রভাব পড়তে পারে।
‘পপুলেশন ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়া’-এর নির্বাহী পরিচালক পুনম মুতরেজা বলছেন, কনডমের দাম বেড়ে গেলে পরিবার পরিকল্পনা ও জনস্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে যুব ও নিম্ন আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে। ঘাটতি বা দামের কারণে অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ ও নারীদের উপর অতিরিক্ত বোঝা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
HLL লাইফ কেয়ার লিমিটেড, ভারতের বড় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, দেশীয় কনডমের প্রায় ৫০% উৎপাদন করে। সংস্থাটি বলেছে, কাঁচামালের দামের ওঠানামা এবং বিতরণে সমস্যার কারণে উৎপাদন ও সরবরাহে বিলম্ব হতে পারে। বিশেষ করে রফতানি ও সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের সীমাবদ্ধতা সরবরাহকে আরও জটিল করছে।
ওষুধ শিল্পেও অনুরূপ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পেট্রোকেমিক্যাল নির্ভর ওষুধের উৎপাদন ও বিতরণ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কনডমের ঘাটতি বা দাম বৃদ্ধি জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি, পরিবার পরিকল্পনা এবং এইডস নিয়ন্ত্রণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতের মতো দেশে, যেখানে অনেক মানুষ বিনামূল্যে বা ভর্তুকিযুক্ত কনডমের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে স্বল্পমেয়াদী ঘাটতিও গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।



