মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে পাকিস্তান-চীনের যৌথ উদ্যোগ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাকিস্তান ও চীন যৌথভাবে একটি উদ্যোগের প্রস্তাবনা ঘোষণা করেছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার-এর বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
এই পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, উত্তেজনা রোধে জরুরি কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে সাধারণ সামুদ্রিক চলাচল পুনরায় চালু করার আহ্বান।
‘ফাইভ-পয়েন্ট প্ল্যান’ এর ঘোষণা
ইসহাক দার চীনে যাওয়ার দুই দিন আগে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন, যা পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ ছিল। এই পরিকল্পনায় চীনের সমর্থন প্রকাশ করা হয়েছে, যা দেখায় বেইজিং সমস্যা সমাধানে ক্রমশ সক্রিয় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।
পরিকল্পনার মূল পয়েন্টসমূহ
- উভয় পক্ষ তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও সংঘাত বাড়তে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
- মানবিক সাহায্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
- শান্তি আলোচনার দ্রুত পুনঃসূচনা এবং কূটনৈতিক সংলাপের গুরুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
- ইরান ও উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা রক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
- আলোচনার সময় শক্তি ব্যবহার বা হুমকি এড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং অসামরিক লক্ষ্যবস্তু রক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
- হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
চীনের কেন্দ্রীয় ভূমিকা
ইসলামাবাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এই উদ্যোগ ইসলামাবাদ ও বেইজিং-এর যৌথ সিদ্ধান্তকে প্রতিফলিত করে। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, চীন ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্ভাব্য মুখোমুখি আলোচনায় নিয়ে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যৌথ বিবৃতিটি প্রমাণ করে পাকিস্তান এবং চীন এই সংকট প্রসঙ্গে ‘একই পৃষ্ঠায়’ রয়েছে।
জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ভালি নাসর মন্তব্য করেছেন, চীন সরাসরি এই যুদ্ধের সমাধানে জড়িত হওয়ার জন্য ‘না’ বলেনি, বরং বেইজিংকে পদক্ষেপ নিতে একটি সুযোগ তৈরি করেছে।
ভূ-রণনীতি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, হরমুজ সেতুর নিরাপদ চলাচল সংক্রান্ত অংশ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বিশ্ব শক্তি বাজারের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত।
সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন



