
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ বেডের সংকটে অপেক্ষমাণ শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, শিশুদের এই মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং এ জন্য তারা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, আইসিইউ সংকটসহ কিছু বাস্তব সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, শিশুদের জন্য এখানে মাত্র ১২টি আইসিইউ বেড রয়েছে, যা সরকার অনুমোদিত নয় এবং হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। ফলে একটি বেডের জন্য ৩০ থেকে ৫০ জন পর্যন্ত রোগীকে অপেক্ষা করতে হয়। বর্তমানে অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে ৩৯ শিশু, যাদের মধ্যে ১৬ জন হাম-এর উপসর্গে আক্রান্ত। গত ১১ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত আইসিইউ বেডের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ৩৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে সাতটি ভেন্টিলেটর আনা হয়েছে বলে জানান সচিব। পাশাপাশি সংক্রামক নয়—এমন রোগীদের প্রয়োজনে রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশন-এ স্থানান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া রাজশাহী শিশু হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল ও বক্ষব্যাধি হাসপাতালের অবকাঠামো ব্যবহার করে সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে আংশিকভাবে শিশু হাসপাতাল চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
হামের প্রাদুর্ভাব প্রসঙ্গে সচিব বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলনের কারণে অনেক শিশু টিকাদান কর্মসূচির বাইরে ছিল, যা সংক্রমণ বৃদ্ধির একটি কারণ হতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে ৬০৪ কোটি টাকার টিকা ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
এদিন প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস-সহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতাল পরিদর্শন করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।



