Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
যুক্তরাষ্ট্রআন্তর্জাতিকইউরোপএশিয়ামধ্যপ্রাচ্য

ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত ‘উন্নত ড্রোন’ ইরানে পাঠাচ্ছে রাশিয়া

রাশিয়া ও ইরানের সমরাস্ত্র লেনদেন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে Associated Press জানিয়েছে, রাশিয়া ইরানকে ড্রোনের একটি বিশাল চালান পাঠাচ্ছে। এ চালানে এমন ড্রোনও রয়েছে, যা মূলত ইরানের প্রযুক্তিতে তৈরি হলেও ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের সময় রাশিয়া এগুলোকে আরও উন্নত ও আধুনিক করেছে।

ইরান গত এক মাস ধরে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। যদিও ইরানের ‘শাহেদ’ ড্রোনের বিশাল মজুত রয়েছে, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এই ড্রোনগুলোর নেভিগেশন ব্যবস্থা, জ্যামিং-প্রতিরোধী প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম যুক্ত করেছে, যা এগুলোকে আরও বিধ্বংসী করেছে।

ইউরোপীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, এই ড্রোনগুলো জেট ইঞ্জিনচালিত হতে পারে, যা সাধারণ ড্রোনের চেয়ে অনেক দ্রুত। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এগুলোকে প্রতিহত করা কঠিন ও ব্যয়বহুল হবে।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনগুলো সরাসরি বিমানে পাঠানো হচ্ছে না; সম্ভবত সড়ক বা রেলপথে পাঠানো হচ্ছে। সম্প্রতি রাশিয়া থেকে আজারবাইজান হয়ে ইরানে প্রবেশ করা ‘মানবিক সাহায্য’ ও ‘খাদ্যসামগ্রী’ ট্রাকের মধ্যে এসব ড্রোন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। রুশ জরুরি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ৩১৩ টন ওষুধ এবং ১৫০ টন খাদ্যসামগ্রী উত্তর ইরানে পাঠিয়েছে। পশ্চিমা কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এই চালানের আড়ালে ড্রোন যন্ত্রাংশও পাচার করা হচ্ছে।

রাশিয়া ও ইরান শুধু অস্ত্রই নয়, নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্যও বিনিময় করছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানির মৃত্যুর খবর বিশ্ববাসী জানার আগেই রুশ কর্মকর্তারা জেনে গিয়েছিলেন। তবে সম্পর্ক সবসময় মসৃণ ছিল না; ২০২৫ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সময় রাশিয়া সরাসরি সহায়তা না দেওয়ায় তেহরান কিছুটা অসন্তুষ্ট ছিল। এখন ড্রোন সরবরাহের মাধ্যমে মস্কো সম্পর্ক পুনরায় মজবুত করার চেষ্টা করছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানিয়েছেন, অন্য কোনো দেশের সরবরাহ মার্কিন সামরিক বাহিনীর সফলতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন হামলায় ইরানের ১৪০টিরও বেশি নৌযান ধ্বংস হয়েছে এবং তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা ৯০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, রাশিয়ার এই উন্নত ড্রোনগুলো যুদ্ধের সমীকরণ আবারও পাল্টে দিতে পারে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button