ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে উচ্চ স্বরে তিরস্কার করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গত সপ্তাহের সোমবার এক ফোনালাপে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তিরস্কার করেছেন। কারণ, নেতানিয়াহু ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বোমা হামলা দেশটির সরকারকে উৎখাত করতে পারে—এ সম্ভাবনাকে অতিরঞ্জিত করে তুলে ধরেছিলেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ফোনালাপের সময় নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন বিষয়টি সহজ হবে এবং সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা বাস্তবতার তুলনায় অনেক বেশি। এই বক্তব্য সম্পর্কে ভাইস প্রেসিডেন্ট যথেষ্ট বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেছিলেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন, ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তা ভাইস প্রেসিডেন্টকে যথেষ্ট কড়া অবস্থানের বলে মনে করেন না এবং যুদ্ধ বন্ধে নেতৃত্বমূলক ভূমিকা নেওয়ার প্রেক্ষাপটে তাকে দুর্বল করার চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। ফোনালাপে ভ্যান্স উল্লেখ করেছেন, যুদ্ধ নিয়ে নেতানিয়াহুর পূর্বাভাস বাস্তবতার তুলনায় অনেক বেশি আশাবাদী ছিল, বিশেষ করে সরকার পতনের জন্য জনতার অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা অতিরিক্ত ইতিবাচক ছিল।
পরের দিনই রিপাবলিকান পার্টির বড় দাতা মিরিয়াম অ্যাডেলসনের মালিকানাধীন এক ডানপন্থী ইসরায়েলি পত্রিকা ভ্যান্সকে নেতানিয়াহুর ওপর চিৎকার করতে দেখানোর খবর প্রকাশ করে। তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি সূত্রগুলো এই প্রতিবেদনটি অস্বীকার করেছে এবং ধারণা করা হচ্ছে খবরটি ইসরায়েলি পক্ষ থেকেই ফাঁস করা হয়েছিল।
ভ্যান্সের অবস্থান ইরান যুদ্ধ বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ। এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, “ইরান যদি ভ্যান্সের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারে, তাহলে তারা কোনো চুক্তিই পাবে না।” তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তা ধারণাটিকে অস্বীকার করেছেন যে ভ্যান্স দ্রুত কোনো চুক্তি করে ইরান থেকে বেরিয়ে যেতে চান।
ইরাক যুদ্ধের সাবেক সেনা ভ্যান্স দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক জড়িত থাকার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে আসছেন। যুদ্ধের সময়কাল, লক্ষ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারের ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে প্রকাশ্যে তিনি প্রশাসনের সঙ্গে সুর মিলিয়ে চলেছেন এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যৌথ বোমা হামলায় সমর্থন জানিয়েছেন।
এর আগে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধানের পরিকল্পনা ছিল, অভিযান সফল হলে মোসাদ ও সিআইএ যৌথভাবে এমন একটি গণ-অভ্যুত্থান উসকে দেবে যা ইরানের সরকার উৎখাত করবে। নেতানিয়াহু এই পরিকল্পনা হোয়াইট হাউসের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন, কিন্তু এটি বাস্তবায়িত হয়নি এবং ট্রাম্প যেকোনো মুহূর্তে যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেন—এ কারণে নেতানিয়াহু হতাশ ছিলেন।



