সর্বত্র বন্ধু থাকলেও কোথাও সুবিধা পাচ্ছে না ভারত

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ নীতি অনুসরণ করে বৈশ্বিক কূটনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছে ভারত। এই নীতির আওতায় দেশটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী জোট ও সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করেছে—যেমন কোয়াড্রিল্যাটারাল সিকিউরিটি ডায়ালগ-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা-এর মাধ্যমে চীন, ব্রিকস-এর মাধ্যমে রাশিয়া এবং আইটুইউটু জোটের মাধ্যমে ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, নয়াদিল্লির কৌশল ছিল জাতীয় স্বার্থে সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখা, তবে কোনো এক পক্ষের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হওয়া। এই ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতিই দীর্ঘদিন ধরে দেশটির বৈশ্বিক অবস্থান নির্ধারণ করেছে।
ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে—বিদেশে থাকা বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর নিরাপত্তা, প্রতিবেশী অঞ্চলে সন্ত্রাস দমন এবং জ্বালানি (তেল ও গ্যাস) সরবরাহ নিশ্চিত করা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এই তিন ক্ষেত্রেই নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তায়।
এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে নয়াদিল্লি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতীয় গ্যাসবাহী ট্যাংকার চলাচলে কিছুটা অগ্রগতি এসেছে।
তবে সংকট পুরোপুরি কাটেনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, এখনো ভারতের ২২টি জাহাজ ওই অঞ্চলে আটকে রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই জাহাজগুলো ছাড়াতে হলে ভারতকে ইরানের সঙ্গে আরও সমঝোতায় যেতে হতে পারে—যেমন জব্দকৃত জাহাজ ফেরত দেওয়া বা মানবিক সহায়তা পাঠানো।
এদিকে ওয়াশিংটন-এর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখাও ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আগে কিছু শর্তে রুশ তেল কেনার সুযোগ দিলেও, ইরান ইস্যুতে ভারতের অবস্থান সেই সুবিধা অব্যাহত থাকবে কি না—তা এখনো অনিশ্চিত।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ নীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সময় হিসেবে দেখা হচ্ছে।



