
ঢাকা থেকে ছেড়ে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার পর এখনো উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বগিগুলো সরিয়ে লাইন সচল করতে আরও প্রায় ৫ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঈশ্বরদী ও পার্বতীপুর থেকে পাঠানো দুটি উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। এরপর থেকেই উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
সান্তাহার জংশন স্টেশনের মাস্টার খাদিজা খাতুন জানান, উদ্ধারকারী ট্রেন আসার পর কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে এবং দুপুরের পর লাইন চালু করা সম্ভব হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও ভোগান্তি কমাতে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নওগাঁ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আবুজার গাফফার জানান, দুর্ঘটনায় আহত শতাধিক মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে, আর বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, রেলওয়ে সাময়িকভাবে বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর উদ্যোগ নিয়েছে। পঞ্চগড়, একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস দিয়ে ট্রান্সশিপমেন্ট চালু রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত ও রূপসা এক্সপ্রেস ব্যবহার করে খুলনা-নীলফামারী রুটেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পার্বতীপুর, রাজশাহী ও চিলাহাটি রুটে কিছু ট্রেনের সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে—কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস বগুড়া হয়ে চলাচল করছে এবং বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসের কিছু যাত্রা আংশিক পরিবর্তন বা বাতিল করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধবার দুপুর ২টার দিকে সান্তাহার এলাকায় নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে রেলওয়ে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।



