
ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। সোমবার রাত থেকে এই চাপ আরও বৃদ্ধি পেলেও স্বস্তির বিষয় হলো—এখনো পর্যন্ত মহাসড়কের কোথাও বড় ধরনের যানজটের সৃষ্টি হয়নি, যানবাহন স্বাভাবিক গতিতেই চলাচল করছে।
মহাসড়কের এলেঙ্গা বাস স্টেশন, রাবনা বাইপাস ও আশেকপুর বাইপাসসহ বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা গেছে, যাত্রীরা বাসের পাশাপাশি ট্রাক, পিকআপ, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে গন্তব্যে যাচ্ছেন। বিশেষ করে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। অনেকেই ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছেন।
পুলিশ জানায়, সোমবার বিকেল থেকে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ে। তবে বুধবার সকাল পর্যন্ত গাজীপুর থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত চারলেন সড়ক সুবিধা থাকায় যাত্রীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছেন। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ১৩.৫ কিলোমিটার অংশে যানজটের আশঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৪৬ হাজার ৯৬৩টি যানবাহন সেতু পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাগামী ছিল ১৯ হাজার ৪৪৫টি এবং উত্তরবঙ্গগামী ২৭ হাজার ৪৯৮টি। এই সময়ে মোট ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৪ হাজার ৬৫০ টাকা টোল আদায় হয়েছে।
যমুনা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, যানবাহনের চাপ থাকলেও যানজট তৈরি হয়নি। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সেতুর দুই পাশে মোট ১৮টি বুথ চালু রাখা হয়েছে, যার মধ্যে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা বুথও রয়েছে। সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুহাম্মদ শরীফ বলেন, গত কয়েক দিনের মতোই চাপ থাকলেও যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং যানজট এড়াতে তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।



