ওয়াশিংটনকে ‘এপস্টাইন গ্যাং’ বলে কটাক্ষ ইরানের

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘর্ষের মাঝে ইরান নতুন ধরনের “মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ” শুরু করেছে। দেশটির শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে মার্কিন প্রশাসনকে ‘এপস্টাইন নেটওয়ার্কের অবশিষ্টাংশ’ বলে সম্বোধন করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে জনগণ নয়, বরং কুখ্যাত অর্থদাতা ও অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের প্রভাবকে দায়ী করছেন।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথকে খোঁচা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের নেতারা জনগণের মাঝে আছেন, আপনারা কোথায়? এপস্টাইনের দ্বীপে!” লারিজানি আরও দাবি করেছেন, এপস্টাইন নেটওয়ার্কের সদস্যরা নতুন ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনার দায় চাপানোর ষড়যন্ত্র করছে, এবং এ ধরনের কার্যকলাপে ইরান যুক্ত নয়।
সামরিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক নাম ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’, কিন্তু ইরানি সমর্থক ও অনেক পশ্চিমা সমালোচক ব্যঙ্গ করে এটিকে ‘অপারেশন এপস্টাইন ফিউরি’ বলে উল্লেখ করছেন। তাদের মতে, আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির এপস্টাইন সম্পর্কিত নথি ফাঁসকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের জন্য আন্তর্জাতিক মনোযোগ ঘোরানো হচ্ছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও বলেন, ইরানের ভবিষ্যৎ শুধুমাত্র গর্বিত ইরানি জাতির দ্বারা নির্ধারিত হবে, এপস্টাইনের গ্যাং দ্বারা নয়। ইরান এই কৌশলের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে দেখাতে চাচ্ছে যে আমেরিকার নেতৃত্ব নৈতিকভাবে দায়মুক্ত নয় এবং তারা ইসরাইলের স্বার্থে একটি অবৈধ যুদ্ধ চালাচ্ছে। রণক্ষেত্রে রক্তক্ষয়ের পাশাপাশি এই “চরিত্র হননের” লড়াই মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
সূত্র: মিডিল ইস্ট আই



