
জামায়াতে ইসলামী সরকারের ৪২টি জেলা পরিষদে ‘দলীয় ব্যক্তিদের’ প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার ‘গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ’ এবং ‘আরেকটি পাতানো নির্বাচনের প্রাথমিক ধাপ’।
রোববার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, সদ্য গঠিত সরকার এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই স্থানীয় সরকার পরিচালনার মূল ভিত্তি। কিন্তু সরকার ‘অত্যন্ত সুকৌশলে’ এই প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারকে ‘দলীয় ও আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণে’ নেওয়ার চেষ্টা করছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার এই পদক্ষেপকে জনগণের ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থার প্রতি সরাসরি আঘাত হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামত প্রতিফলিত করার পরিবর্তে নিয়োগনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখার প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য গভীর অশনিসংকেত।’
তিনি যুক্ত করেন, সরকার ‘স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার নামে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে’ এবং জনগণের ভোট ও মতামতকে উপেক্ষা করে প্রশাসক নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। মিয়া গোলাম পরওয়ার জোর দেন, এই সিদ্ধান্ত সরকারের জন্যই বুমেরাং হবে।
তিনি সরকারকে দ্রুত এই ‘অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত’ বাতিল করে জেলা পরিষদে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব অর্পণের আহ্বান জানান।



