‘মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ড্রোন ঠেকাতে সাহায্যের বিনিময়ে টাকা ও প্রযুক্তি চায় ইউক্রেন’

ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে সহায়তা করতে প্রস্তুত ইউক্রেন, তবে এর বিনিময়ে অর্থ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চায় কিয়েভ।
রোববার প্রকাশের জন্য অনুমোদিত এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ইউক্রেন ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশে কয়েক ডজন সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে। এসব দল ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূল্যায়ন করবে এবং কীভাবে কার্যকরভাবে তা পরিচালনা করতে হয়, সে বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেবে।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চল, সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপ-আমেরিকার অংশীদারদের জন্য শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা কঠিন হবে। তার ভাষায়, “যারা আমাদের সাহায্য করে, আমরা তাদের সাহায্য করতে প্রস্তুত।”
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইউক্রেনসহ যে কোনো দেশ সহায়তার প্রস্তাব দিলে যুক্তরাষ্ট্র তা গ্রহণ করবে। এ প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব রুস্তেম উমেরভ সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে গিয়ে সম্ভাব্য চুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ ইরানের সস্তা ‘শাহেদ’ ড্রোন প্রতিরোধে ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছে। সেখানে ইউক্রেন তুলনামূলক সস্তা ও গণ-উৎপাদিত ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ব্যবহার করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। সেই প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা এখন উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ভাগাভাগি করার প্রস্তাব দিয়েছে কিয়েভ।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে ইউক্রেনের অভ্যন্তরেও আলোচনা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—যখন দেশের ভেতরেই ড্রোনের প্রয়োজন বেশি, তখন কেন তা বাইরে দেওয়া হবে। তাই জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই সহায়তার বিনিময়ে ইউক্রেনকে লাভবান হতে হবে। তিনি ইউক্রেনের জন্য আরও বেশি প্যাট্রিয়টসহ উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চান, যাতে রাশিয়ার দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা যায়।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইউক্রেন শুধু অর্থ উপার্জনই নয়, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন কৌশলগত মিত্রও তৈরি করতে চায়।



