আজ হজরত আলী (রা.)–এর শাহাদত দিবস

আজ ২১ রমজান—ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হজরত আলী (রা.)–এর শাহাদত দিবস। এ উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা তার জীবন, ত্যাগ ও ন্যায়বিচারের আদর্শকে স্মরণ করছেন।
এই সময় ইরাকের নাজাফ শহরে অবস্থিত হজরত আলী (আ.)-এর মাজার-এ লাখো ধর্মপ্রাণ মানুষের ঢল নেমেছে। প্রতি বছর রমজানের ২১ তারিখকে ঘিরে সেখানে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি জড়ো হন।
ইতিহাস অনুযায়ী, কুফা মসজিদ-এ ফজরের নামাজের সময় বিষমাখা তরবারি দিয়ে হামলা চালায় ঘাতক আবদুর রহমান ইবনে মুলজিম। ১৯ রমজানের সেই হামলায় গুরুতর আহত হয়ে দুই দিন পর ২১ রমজানে শাহাদত বরণ করেন হজরত আলী (রা.)।
শাহাদত দিবস উপলক্ষে ইরান, ইরাক, পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শোকসভা, মজলিস ও শোক মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।
মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী, হজরত আলী (রা.)–এর জন্ম হয়েছিল ইসলামের পবিত্রতম স্থান কাবা শরিফ–এর ভেতরে। ফলে তার জন্মস্থান ও শাহাদতস্থল—দুটি স্থানই মুসলমানদের কাছে গভীর শ্রদ্ধার প্রতীক।
ইসলামের চতুর্থ খলিফা হিসেবে তিনি প্রায় পাঁচ বছর নেতৃত্ব দেন। ৬৬১ খ্রিস্টাব্দে তার শাহাদতের মধ্য দিয়ে সেই সময়ের অবসান ঘটে। একজন যোদ্ধা, প্রশাসক, বিচারক ও জ্ঞানী আলেম হিসেবে তার বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব ইসলামী ইতিহাসে বিশেষ মর্যাদা পেয়েছে।
তার খুতবা, চিঠি ও বাণী সংকলিত হয়েছে বিখ্যাত গ্রন্থ নাহজুল বালাগা-তে, যা বিশ্বের বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
ইসলামী ইতিহাসে তিনি বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন—যেমন “আসাদুল্লাহ” (আল্লাহর সিংহ), “হায়দার”, “বাবুল মদিনাতুল ইলম” এবং “ফাতেহে খায়বার”।
শুধু মুসলমানদের মধ্যেই নয়, অনেক অমুসলিম চিন্তাবিদও তার ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়েছেন। লেবাননের খ্রিস্টান গবেষক জর্জ জুরদাক তার বিখ্যাত গ্রন্থ The Voice of Human Justice–এ হজরত আলী (রা.)–এর ন্যায়পরায়ণতা ও মানবিকতার উচ্চ প্রশংসা করেছেন।
ইসলামের ইতিহাসে তার জীবন ও শাসনদর্শন আজও ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও নেতৃত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। তার শাহাদত দিবস মুসলিম বিশ্বকে সেই আদর্শের কথাই আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়। 🤍



