
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডামের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান জানিয়েছেন, সকাল ৬টা থেকে অভিযান শুরু হয় এবং ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “জঙ্গল সলিমপুরকে অনেকেই দেশের ভেতরে আরেকটি দেশ বলে উল্লেখ করেন। এখানে কোনো অবৈধ শক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আমাদের ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।”
যৌথ বাহিনী ভোর থেকেই জঙ্গল সলিমপুরের চারপাশ ঘিরে ফেলে। এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার সব পথ তল্লাশি-চৌকির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, এবং বাহিনীর সদস্যরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন। আকাশপথে নজরদারির জন্য ড্রোন ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি মাটির নিচে বা ঝোপঝাড়ে লুকানো অস্ত্র ও বিস্ফোরক শনাক্তের জন্য কুকুর-স্কোয়াড কাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে প্রায় ৫৫০ সেনাসদস্য, ১ হাজার ৮০০ পুলিশ, ৩৩০ এপিবিএন, ৪০০ র্যাব এবং ১২০ বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
গত ১৯ জানুয়ারি এই এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাব-৭-এর এক নায়েব সুবেদার নিহত হন। মামলায় মোহাম্মদ ইয়াসিন-কে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ইয়াসিন ও নুরুল হক ভান্ডারী-সহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা প্রায় ২০০ জনকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামি ধরার চেষ্টা করলে ইয়াসিনের নির্দেশে রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় একজন আটক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চার র্যাব সদস্য অপহরণ করা হলেও পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।
জঙ্গল সলিমপুর চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা মোহাম্মদ ইয়াসিন, অন্যটির নেতৃত্বে রোকন উদ্দিন। ইয়াসিন আগে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি নিজেকে বিএনপির নেতা আসলাম চৌধুরী-এর অনুসারী দাবি করেন। তবে র্যাব কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ঘটনার পর আসলাম চৌধুরী গণমাধ্যমে জানিয়েছে, জঙ্গল সলিমপুরে তার কোনো অনুসারী নেই।



