Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
বাংলাদেশস্বাস্থ্য

ঢাকা মেডিক্যালে ৪ হাজার শয্যার ভবন নির্মাণ হচ্ছে

দেশের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’ দেওয়ার জন্য সরকার মনোনয়ন দেওয়ায় চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

গত শুক্রবার হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনরত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই হাসপাতাল শুধু চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রেই নয়, ভাষা আন্দোলনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বহু ঐতিহাসিক ঘটনারও সাক্ষী।

তারা বলেন, দিনরাত মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাওয়া এই প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীত করা নিঃসন্দেহে গৌরবের বিষয়। এজন্য তারা সরকার প্রধান তারেক রহমানসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

চিকিৎসকরা জানান, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল দেশের সব স্তরের মানুষের চিকিৎসার শেষ ভরসাস্থল। যদিও রোগীর তুলনায় শয্যা ও জনবল দুটিই সীমিত। তবুও সারা দেশ থেকে দুর্ঘটনায় আহত, অগ্নিদগ্ধ, জটিল ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত অসংখ্য রোগী এখানে এসে চিকিৎসা পান।

সরকার শুধু স্বাধীনতা পদকের ঘোষণা দিয়েই থেমে থাকেনি। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আরও চার হাজার শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর বাস্তবায়ন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ছোটখাটো অপারেশন, ইসিজি, এক্স-রেসহ বিভিন্ন জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিদিন জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগে প্রায় ১০ হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা এই বিভাগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দুর্ঘটনায় আহত ও সংকটাপন্ন রোগীরা চিকিৎসার জন্য আসেন।

জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ এতটাই বেশি যে অনেক সময় সেখানে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিদিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দুর্ঘটনায় আহত ২০ থেকে ৫০ জন পর্যন্ত রোগী প্রায় একই সময়ে জরুরি বিভাগে পৌঁছান। এছাড়া অন্যান্য সংকটাপন্ন রোগীর ভিড়ও সবসময় লেগেই থাকে।

চিকিৎসকরা জানান, সীমিত জনবল নিয়েই বিপুলসংখ্যক রোগী সামাল দিতে হচ্ছে। তারপরও কোনো রোগীকে জরুরি চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয় না। প্রয়োজন হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডেও একই ধরনের চিত্র দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে এক শয্যায় দুজন রোগী থাকেন, আবার কেউ কেউ মেঝে, বারান্দা কিংবা সিঁড়ির নিচেও চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবুও চিকিৎসক ও নার্সরা তাদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানান, এখানে মাথায় আঘাত, স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি, মস্তিষ্কের টিউমারসহ বড় ধরনের অপারেশনও করা হয়। এসব অপারেশন বেসরকারি হাসপাতালে করতে কয়েক লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে, কিন্তু এখানে রোগীরা প্রায় বিনামূল্যে একই মানের চিকিৎসা পাচ্ছেন।

বর্তমানে পুরোনো হাসপাতাল ভবন, হাসপাতাল-২ এবং জরুরি বিভাগের সামনে অবস্থিত সাবেক ৩০০ শয্যার বার্ন ইউনিটসহ মোট প্রায় ২ হাজার ৯০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। এখানে ৪২টি অপারেশন থিয়েটার রয়েছে। এছাড়া গাইনি বিভাগের জন্য আলাদা অপারেশন থিয়েটারও আছে। নিউরোসার্জারি, গাইনি ও ক্যাজুয়েলটিসহ বিভিন্ন ধরনের জরুরি অপারেশন ২৪ ঘণ্টাই করা হয়।

এছাড়া কার্ডিয়াক সার্জারি, ডায়াবেটিস, গ্যাস্ট্রোলিভার, থোরাসিক সার্জারি, ক্যানসার ও কিডনি রোগের জন্য বিশেষায়িত ইউনিট রয়েছে। ফলে এক ছাতার নিচেই সব ধরনের চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন রোগীরা।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দেশের প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীত করা একটি বড় অর্জন। এতে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাজের উৎসাহ আরও বেড়ে যাবে। তিনি এ জন্য সরকার প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button