
ঝিনাইদহে তেল নিতে গিয়ে পাম্পশ্রমিকদের মারধরের কারণে ২২ বছর বয়সী নিরব হোসেনের মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বিক্ষুব্ধ জনতা পাম্পের মালিকের একটি বাসসহ তিনটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার পর সকাল ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত শ্রমিকরা ঝিনাইদহ-মাগুরা-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। পরে প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নিরব হোসেন শনিবার রাতে মোটরসাইকেলে তেল নিতে গিয়ে পাম্পশ্রমিকদের সঙ্গে তর্কের এক পর্যায়ে মারধরের শিকার হন। পরে অসুস্থবোধ করলে হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত যুবক কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের আলিমুর বিশ্বাসের ছেলে এবং ঝিনাইদহ শহরের বকুলতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
ঘটনার পর তাজ ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে তিন পাম্পশ্রমিককে আটক করা হয়েছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১টার দিকে বিক্ষুব্ধরা সৃজনী ফিলিং স্টেশনে হামলা চালিয়ে মেশিন ভাঙে এবং রাত ৩টার দিকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দাঁড়ানো জে লাইন, রয়েল এক্সপ্রেস ও নাঈম পরিবহনের বাসে আগুন দেয়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক তানভীর হাসান জানান, আগুনে বাসের সিটসহ বেশ কিছু অংশ পুড়ে গেছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও বাস মালিকরা ঘটনার তদন্তে সচেষ্ট। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ চলছে এবং আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে। নিহতের পরিবারকেও থানায় মামলা দায়ের করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বাস মালিক হারুন অর রশিদও দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং বলেন, ঘটনার প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক নয়, তবে আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করা হবে।



