Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
আন্তর্জাতিকএশিয়ামধ্যপ্রাচ্যযুক্তরাষ্ট্র

ইরানে হা/ম/লা/র পর নতুন পরীক্ষার মুখে মার্কিন অর্থনীতি

গত এক বছরে বাণিজ্যযুদ্ধ, অভিবাসন সংকট ও নানা অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলে যখন মার্কিন অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছিল, ঠিক তখনই নতুন করে অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনিয়েছে। ইরানের ইসলামপন্থি শাসনব্যবস্থাকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য সামনে রেখে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর আকস্মিক সামরিক পদক্ষেপ বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিকে নাড়া দিয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকেই বদলে দেবে না, বরং বিশ্ববাজারেও নতুন অস্থিরতার ঢেউ তুলবে।

শুরুতেই এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে। ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ৭০ ডলার থেকে দ্রুত বেড়ে প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছে যায়। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো হরমুজ প্রণালী, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ। এ পথের জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

নিজস্ব তেল ও গ্যাস উৎপাদন থাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জ্বালানি সংকটে তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বৈশ্বিক বাণিজ্য, মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব এড়ানো কঠিন। বছরের শুরুতে যে প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছিল, তা এখন প্রশ্নের মুখে।

ব্যবসায়িক আস্থার ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন জরিপে সিইওদের মধ্যে আশাবাদ বাড়লেও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাংক আগে মার্কিন অর্থনীতিকে নিয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন দিলেও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত সেই হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সংকটের প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে সংঘাত কতদিন স্থায়ী হয় এবং তেলের দাম কতদূর বাড়ে তার ওপর। ফেডারেল রিজার্ভ-এর জন্য পরিস্থিতি বিশেষভাবে জটিল। মূল্যস্ফীতি বাড়লে সুদের হার কমানোর পরিকল্পনা পিছিয়ে যেতে পারে। সাবেক ফেড চেয়ারম্যান জ্যানেট ইয়েলেন ও সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধের প্রভাবে একদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে, অন্যদিকে প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে—যা নীতিনির্ধারণকে কঠিন করে তুলবে।

বিশ্লেষকরা আরও আশঙ্কা করছেন, ইরান সরাসরি যুদ্ধে না গিয়ে অপ্রতিসম কৌশল নিতে পারে। প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps সাইবার হামলা, প্রক্সি যুদ্ধ বা জ্বালানি অবকাঠামোয় আঘাতের পথ বেছে নিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তেলের দাম ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গেলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি এখন দুই সম্ভাবনার মুখে—সংঘাত দ্রুত থেমে গিয়ে বাজার স্থিতিশীল হবে, অথবা এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও প্রবৃদ্ধিকে বড় ধাক্কা দেবে। অনিশ্চয়তার এই সময়ে বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button