Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
ইউরোপআন্তর্জাতিক

ইউরোপজুড়ে গুপ্তচর নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে রাশিয়া

পশ্চিম ইউরোপজুড়ে রাশিয়ার গুপ্তচররা নানা ধরনের সম্পত্তিকে ‘ট্রোজান হর্স’-এর মতো গোপন ঘাঁটিতে পরিণত করছে বলে সতর্ক করেছেন গোয়েন্দারা। তাদের আশঙ্কা, এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হবে নজরদারি, নাশকতা এবং সংকটের সময় তাত্ক্ষণিক হামলা চালানোর জন্য। রাশিয়ার গোপন ইউনিটগুলো অন্তত এক ডজন দেশে সামরিক ও বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কাছাকাছি জমি, বাড়ি, দ্বীপ এবং অন্যান্য সম্পত্তি কিনেছে। এসব সম্পত্তি অনেক সময় নিরীহ কাজে ব্যবহারের আড়ালে, আসলে সেগুলোতে ড্রোন, স্যাটেলাইট, নিরাপত্তা ক্যামেরা এবং এমনকি অস্ত্র রাখা হতে পারে।

ফিনল্যান্ড, সুইডেন এবং নরওয়েতে রাশিয়ার কৌশল সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। ফিনল্যান্ডে আর্কিপেলাগো এলাকার সাক্কিলুওতো দ্বীপে রাশিয়ার এক কোম্পানি ১৭টি সম্পত্তি কিনে সেখানে হেলিকপ্টার, স্পিডবোট এবং ছদ্মবেশী কমান্ডো মোতায়েন করেছিল। সুইডেনে গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ও আশপাশের স্থানে রাশিয়ার সংযোগ রয়েছে এমন গির্জা তৈরি হয়েছে, যেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি সরঞ্জাম বসানো হয়েছে। নরওয়েতে ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা কেবিন ও বাড়ি কিনে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি ও রাডার স্থাপনার কাছে অবস্থান নিয়েছে।

রাশিয়ার কৌশল শুধু নজরদারিতে সীমাবদ্ধ নয়, এটি হামলার প্রস্তুতিও করছে। কোনো সংকট দেখা দিলে এই সম্পত্তি থেকে সমন্বিত ড্রোন হামলা বা নাশকতা চালানো যেতে পারে। ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর বড় প্রকল্প থেকে সরলেও, ছোট আকারে কিন্তু বিস্তৃতভাবে এই কৌশল অব্যাহত রয়েছে। চীনও অনুরূপ কৌশল ব্যবহার করছে, তবে তাদের লক্ষ্য মূলত দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি।

পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো কিছুটা সাড়া দিচ্ছে; ফিনল্যান্ড, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া এবং নরওয়ে রুশ নাগরিকদের সম্পত্তি ক্রয়ে বিধিনিষেধ জারি করেছে। তবে অর্থনৈতিক স্বার্থ ও আইনগত ফাঁকফোকরের কারণে অনেক দেশ এখনও তৎপর নয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে তথ্য ভাগাভাগি কম হওয়ায় হুমকির মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সংক্ষেপে, রাশিয়ার লক্ষ্য হলো ইউরোপের সেন্সিটিভ স্থাপনা ও যোগাযোগ নেটওয়ার্কের কাছাকাছি সম্পত্তি ক্রয় করে হাইব্রিড যুদ্ধ চালানো, যা নজরদারি, নাশকতা এবং সংকটের সময় তাত্ক্ষণিক হামলার সম্ভাবনা তৈরি করে। ইউরোপীয় দেশগুলো যত দ্রুত এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নেবে, তত সহজে এই হুমকি মোকাবিলা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button