Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
বাংলাদেশপ্রধানমন্ত্রী

ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কঠিন পরীক্ষায় তারেক রহমান

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনমতের প্রতিফলন।

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা দিল্লিতে অবস্থান করছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অনুপস্থিতিতে তার বিচার ও রায়ের বিষয়টি কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-এর সরকার তাকে ফেরত না দেওয়ায় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

দিল্লির ওপর নির্ভরতা ও বিতর্ক

শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলেও সমালোচকদের মতে, এতে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। নিরাপত্তা সহযোগিতা, সংযোগ ও জ্বালানি খাতে অগ্রগতি হলেও তিস্তা পানি বণ্টনসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু অমীমাংসিত থেকে যায়। সীমান্ত হত্যা ও বাণিজ্য ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন ছিল।

সম্পর্ক পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ

ক্ষমতায় এসে তারেক রহমান “নট দিল্লি, নট পিণ্ডি—বাংলাদেশ সবার আগে” স্লোগান দেন। এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। করাচির সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালু ও উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় সম্পর্কের নতুন ইঙ্গিত দেয়।

তবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের ভেতরে ভারতবিরোধী মনোভাব থাকলেও বাণিজ্য, জ্বালানি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বাস্তবতা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।

আগামীর দিকনির্দেশ

পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ একক নির্ভরতার পরিবর্তে বহুমুখী কূটনৈতিক কৌশল নিতে পারে—ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করে নিজস্ব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে বার্তাটি স্পষ্ট—বাংলাদেশ ভবিষ্যতে নিজস্ব স্বার্থের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে চায় এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে আরও আত্মবিশ্বাসী ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button