
সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, ঢাকার প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবাধ চলাচল ও যানজট সৃষ্টির বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। তিনি বলেন, অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব কি না, নাকি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে এনে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—সে বিষয়ে সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, রেল সম্প্রসারণ, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, খাল পুনঃখনন এবং সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থাপনা—এসব খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে বাজার বসা, অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং এবং ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে যানজট বাড়ছে। স্ট্রিট পার্কিংয়ের নামে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ইজারা দেওয়ার বিষয়টি সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজন হলে বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পদ্মা সেতু-এর টোল আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, নিয়মিত টোল আদায় হচ্ছে এবং সেতুর কিস্তিও পরিশোধ করা হয়েছে; এ বিষয়ে কোনো বকেয়া নেই।
আসন্ন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে আগের সফল মডেল অনুসরণ করা হবে বলেও জানান তিনি। অতিরিক্ত পদক্ষেপ যুক্ত করার বিষয়ে তিন থেকে চার দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মেট্রোরেলের কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে এবং তা দ্রুতগতিতে এগোবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিআরটি প্রকল্প প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রকল্পটি রাষ্ট্রবান্ধব হয়নি—এমন প্রাথমিক ধারণা রয়েছে। তবে বিপুল অর্থব্যয় ও ঋণসংক্রান্ত জটিলতা থাকায় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়; বিষয়টি পর্যালোচনায় রয়েছে।
দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়ে তিনি বলেন, যেখানে জনস্বার্থ, সেখানে দলীয় স্বার্থ নগণ্য। কোনো সংগঠন বা গোষ্ঠীকে প্রাধান্য বিস্তার করতে দেওয়া হবে না; স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করেই মন্ত্রণালয় পরিচালনা করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে দুই প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজিব আহসান উপস্থিত ছিলেন।



