
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে মাঠপর্যায়ে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনী যে পেশাদার ও নিরপেক্ষ আচরণ দেখিয়েছে, তা অব্যাহত থাকলে দেশ একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে আয়োজিত এক জরুরি ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তার মতে, দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার ও অন্যান্য মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ সেই অধিকার পুনরুদ্ধার করবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান জানান, ঢাকা-১৫ আসনে সামগ্রিকভাবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ থাকলেও মিরপুর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় বালিকা শাখা কেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তার অভিযোগ, সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের কিছু লোক ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে এবং কয়েকজনকে শারীরিকভাবে হয়রানি করা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কিছু স্থানে প্রার্থীদের ওপরও হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে সেনাবাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলেও জানান তিনি।
লাকসাম ও ভোলার লালমোহনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে। ডা. শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অনিয়ম বা জালিয়াতির মাধ্যমে কোনো সরকার গঠিত হলে সেই সরকারের প্রতি জনগণের নৈতিক সমর্থন থাকবে না।
নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে যেসব এলাকায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেখানে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।
ব্রিফিংয়ের শেষাংশে তিনি দলের নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরে ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করার নির্দেশ দেন। তার মতে, ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসতে পারলেই গণতন্ত্রের পক্ষে ইতিবাচক ফল নিশ্চিত হবে।
সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থার কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির আশা প্রকাশ করেন, দিনশেষে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ফলাফল দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।



