
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা দেশের বিভিন্ন আসনে সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে জরিপ করেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশের বড় অংশে এগিয়ে আছে। তবে অনেক আসনে জামায়াত ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।
উত্তরাঞ্চলের জেলার মধ্যে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি প্রার্থীরা বেশিরভাগ আসনে জিততে পারেন। দিনাজপুরের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি জয়ী হতে পারে, একটিতে জামায়াত এবং একটিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর জয় সম্ভাবনা আছে। রংপুর ও কুড়িগ্রাম অঞ্চলেও বিএনপি এগিয়ে থাকলেও কিছু আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। গাইবান্ধায় দুটি আসনে বিএনপি, দুটি আসনে জামায়াত এবং একটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হতে পারেন।
রাজশাহী বিভাগের জেলা বগুড়া, চাপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় বিএনপি প্রায় সব আসনে এগিয়ে। তবে কয়েকটি আসনে জামায়াত বা বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। খুলনা অঞ্চলে বিএনপি বেশিরভাগ আসনে এগিয়ে থাকলেও দুটি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। বরিশাল ও পার্শ্ববর্তী জেলার মধ্যে ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভোলা ও বরগুনায় বিএনপি প্রার্থীর জয় সম্ভাবনা বেশি, কিছু আসনে জামায়াত বা বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে।
ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ১৫টিতে বিএনপি জিততে পারে। বাকি আসনে জামায়াত, বিএনপির বিদ্রোহী অথবা খেলাফত মজলিশের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। গাজীপুর ও নরসিংদীতে বিএনপি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে, নারায়ণগঞ্জে তিনটি আসনে বিএনপি, একটিতে ত্রিমুখী লড়াই এবং একটিতে বিএনপি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যাঞ্চলের জেলা টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর ও মুন্সীগঞ্জেও বিএনপি বেশিরভাগ আসনে এগিয়ে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও সিলেট অঞ্চলে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর, সিলেট ও মৌলভীবাজারে বিএনপি প্রায় সব আসনে এগিয়ে। তবে কিছু আসনে জামায়াত বা বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫টি আসনে বিএনপি জয়ী হতে পারে, তিনটি আসনে জামায়াতের জয়ের সম্ভাবনা আছে। বাকি আসনে বিজয় নির্ধারণ হবে বিএনপি, জামায়াত, বিএনপির বিদ্রোহী বা অন্যান্য প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে।
সার্বিকভাবে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ফলাফলে দেখা যায়, দেশের বড় অংশে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও অনেক আসনে ত্রিমুখী বা চতুর্মুখী লড়াই হবে। জামায়াত এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচনের চিত্রকে অস্থির ও আকর্ষণীয় করে তুলবে। প্রতিবেদনের মূল লক্ষ্য ছিল আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন, তাই এটি আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী ফলাফল নয়।



