
তারেক রহমান, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় সন্তান, এবার প্রথমবার জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। মায়ের মৃত্যুর পর তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং দলকে সরাসরি নেতৃত্ব দিতে শুরু করেছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফিরে তিনি বিএনপিকে একক নেতৃত্বে পরিচালনার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারে মনোনিবেশ করেছেন। সমর্থকেরা তাকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখছেন, যদিও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ অতীতের দুর্নীতি, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বিতর্কগুলো সামনে তুলে প্রশ্ন তুলছে।
তার রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ প্রতিকূলতায় পরিপূর্ণ। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনের সময় দলের কার্যক্রমে সক্রিয় হয়ে পরবর্তীতে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে আটক হন, ১৮ মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়ে লন্ডনে চলে যান। দেশে ফেরার পর তিনি দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছেন এবং এবার এককভাবে নির্বাচনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির জন্য তারেকের নেতৃত্ব অনিবার্য হলেও এবার নির্বাচনী চ্যালেঞ্জই তার ক্ষমতার প্রথম বড় পরীক্ষা। দলীয় নেতৃত্ব, নেতাদের নিয়ন্ত্রণ এবং জনমতের সঙ্গে যোগাযোগ—সবই এখন তার মূল পরীক্ষা। বিএনপির সমর্থকরা তাকে ‘মুক্তিযুদ্ধ ও মধ্যপন্থী গণতন্ত্রের একক নেতা’ হিসেবে দেখাতে চাচ্ছেন, আর দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তার ভবিষ্যত সফলতা অনেকটাই নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে।



