
গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তার স্ত্রী বীথিকে সাত দিন, বাসার গৃহকর্মী সুফিয়া বেগমকে ছয় দিন এবং রুপালী খাতুনকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) তাহমিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোবেল মিয়া চার আসামির প্রত্যেকের জন্য সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিতে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ডিএমসি) প্রতিনিধি ফাহমিদা আক্তার রিংকিসহ কয়েকজন আইনজীবী সর্বোচ্চ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী এ কে আজাদ রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন।
এর আগে সুফিয়া বেগমের রিমান্ড শুনানিকালে বিচারক এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিদের বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামা আসামির রিমান্ড আবেদন করার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তদন্ত কর্মকর্তা যুক্তি দেন, তথ্য দ্রুত পাওয়ার সুবিধার্থে প্রথমে তার রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। তবে বিচারক এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সব আসামির রিমান্ড আবেদন একসঙ্গে দাখিল ও শুনানি হওয়া উচিত। পরে চার আসামির রিমান্ড আবেদন একত্রে শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করা হয়।
উল্লেখ্য, নির্যাতনের শিকার শিশুটির বাবা গোলাম মোস্তফা গত ১ ফেব্রুয়ারি সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বীথি এবং গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরদিন তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২ ফেব্রুয়ারি জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত তাদের কারাগারে পাঠান।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত বছরের জুনে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুর রহমানের বাসায় শিশুটিকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে দেওয়া হয়। মেয়ের বিয়ে ও ভবিষ্যৎ ব্যয়ের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাসে নিরাপত্তাকর্মীর মাধ্যমে যোগাযোগের পর তাকে কাজে পাঠান বাবা।
এজাহার অনুযায়ী, গত ৩১ জানুয়ারি সাফিকুর রহমানের স্ত্রী বীথি ফোন করে জানান, শিশুটি অসুস্থ। সন্ধ্যায় মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান বাবা। মেয়েটি তখন ঠিকভাবে কথাও বলতে পারছিল না।
পরবর্তীতে শিশুটিকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সে বাবাকে জানায়, বাসায় তাকে নিয়মিত মারধর করা হতো এবং গরম খুন্তি দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছিল।



