Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
রাজনীতিজামায়াত

আড়াল থেকে শীর্ষ ক্ষমতার লড়াইয়ে জামায়াত আমির

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রান্তিক অবস্থানে থাকা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। ঢাকার বিভিন্ন পোস্টার ও বিলবোর্ডে সাদা পোশাক ও দাড়িওয়ালা তার ছবির সঙ্গে ভোটারদের আহ্বান জানানো হচ্ছে আসন্ন নির্বাচনে দেশের প্রথম ইসলামপন্থী নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য। ৬৭ বছর বয়সী এই চিকিৎসক অল্প সময়ের মধ্যেই তুলনামূলক অচেনা এক ব্যক্তি থেকে প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হয়েছেন।

দশকের পর দশক ইসলামপন্থি রাজনীতির গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এবার শফিকুর রহমান জাতীয় রাজনীতির মূল মঞ্চে। ধারণা করা হচ্ছে, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের সাবেক মিত্র ও বর্তমান ফ্রন্টরানার বিএনপির সঙ্গে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারে।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। ২০২৪ সালে জেন জি নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর এটি দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ বাংলাদেশে ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হলেও সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিও বহাল রয়েছে।

বিভিন্ন জনমত জরিপে ইঙ্গিত মিলছে, একসময় নিষিদ্ধ থাকা এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অবস্থানের কারণে সমালোচিত জামায়াতে ইসলামী এবার তাদের ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী নির্বাচনী ফলের দিকে এগোচ্ছে। তবে এতে মধ্যপন্থি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শেখ হাসিনার শাসনামলে ইসলামপন্থি দলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর দমননীতি অনুসরণ করা হয়েছিল। জামায়াতের শীর্ষ নেতারা কারাবন্দি হন, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় এবং দলটি নিষিদ্ধ হয়ে পড়ে। শফিকুর রহমান নিজেও ২০২২ সালে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ১৫ মাস কারাভোগ করেন।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যায়। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জামায়াতের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করে। পরবর্তীতে আদালতের রায়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে দলটি প্রকাশ্য রাজনীতিতে ফিরে আসে।

এরপর দ্রুত সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করে জামায়াত। ত্রাণ ও দাতব্য কার্যক্রমের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে দলটি, যেখানে শফিকুর রহমানের সরাসরি উপস্থিতি তাকে জনসমক্ষে আরও পরিচিত করে তোলে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণ-অভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট নেতৃত্বশূন্য পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতেই শফিকুর রহমান দ্রুত সামনে আসতে পেরেছেন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি জামায়াতকে নৈতিকতা, সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী একটি বিকল্প শক্তি হিসেবে তুলে ধরছেন। তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দলটি জেন জি-সমর্থিত একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গেও জোট গঠন করেছে।

তবে নারীদের ভূমিকা নিয়ে তার বক্তব্য বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। জামায়াত এবারের নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি এবং নারীদের কর্মঘণ্টা সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। এসব বিষয়ে দলটি ব্যাখ্যা দিয়েছে এবং শফিকুর রহমান নিজেকে যুক্তিসঙ্গত ও নমনীয় নীতির অনুসারী হিসেবে তুলে ধরছেন।

সূত্র: রয়টার্স

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button