
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য ধরে রাখতে পারলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি অনন্য অবস্থানে পৌঁছাতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সিইও এবং শহীদ মীর মুগ্ধর যমজ ভাই মীর স্নিগ্ধ। তিনি গত নভেম্বরে বিএনপিতে যোগ দেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মতামত প্রকাশ করেন।
মীর স্নিগ্ধ বলেন, তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ এনসিপির প্রতি আগ্রহী থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে দলটির জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সেই আগ্রহকে গভীর দ্বিধায় রূপ দিয়েছে। তার মতে, ক্ষমতায় যাওয়ার শর্টকাট পথ বেছে নিলে রাজনৈতিক বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, গত কয়েক দিনে বন্ধু ও ছোট-বড় ভাইদের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন। ‘জেনারেশন জেড’-এর একটি বড় অংশ গুরুত্বের সঙ্গে এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা ভাবছিল। এর পেছনে কারণ ছিল প্রচলিত রাজনীতির বাইরে গিয়ে নতুন কিছু করার প্রত্যাশা এবং দলটির স্বতন্ত্র অবস্থান।
তবে জোটে যোগ দেওয়ার পর সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সেই উৎসাহে ভাটা পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমানে ভোটের বিষয়ে প্রশ্ন করলে অনেকের কাছ থেকেই প্রায় একই ধরনের উত্তর পাওয়া যাচ্ছে—‘আগে ভাবছিলাম এনসিপিকে ভোট দেব, কিন্তু এখন ভাবছি।’
এই অনিশ্চয়তাকে রাজনীতির জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করে মীর স্নিগ্ধ বলেন, এনসিপির নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে জোটে যাওয়ার বিষয়টি সম্ভবত সবচেয়ে বড় ভুল। তিনি মনে করেন, দলটি যদি এককভাবে নিজেদের অবস্থান বজায় রাখত, তাহলে হয়তো এই নির্বাচনে বড় জয় না এলেও ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করা সম্ভব হতো।
তার পর্যবেক্ষণে আরও উঠে আসে, বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে যুক্ত হয়ে এনসিপি তাদের স্বকীয়তাকে সংকটের মুখে ফেলেছে। ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়ার তাড়াহুড়ো যদি ভোটারদের বিশ্বাস নষ্ট করে দেয়, তাহলে দীর্ঘ পথচলা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তবে এটি তার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং সময়ের ব্যবধানেই এর প্রকৃত ফলাফল স্পষ্ট হবে বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তরুণদের একটি বড় অংশ এতদিন এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করলেও, সাম্প্রতিক কৌশলগত পরিবর্তন নিয়ে আন্দোলন সংশ্লিষ্টদের মধ্যেই এখন নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা দিয়েছে।



