Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
বাংলাদেশজামায়াতরাজনীতি

চাইলেও কেউ কিয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবে না: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চব্বিশের জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে রক্তাক্ত কাহিনী। পুরনো বন্দোবস্তের রাজনীতি আর দেখতে চায় না জনগণ। দেশবাসী একটি নতুন বাংলাদেশ চায়। চাইলেও কেউ কিয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।

আজ (বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি) নাটোর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি নাটোরে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন এবং সেখানেই পূর্ণাঙ্গ সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতার লড়াই করছে না; তারা ১৮ কোটি মানুষকে বিজয়ী করতে চায়।’ ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে বিভক্ত করার রাজনীতির বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই তাদের লক্ষ্য।’

এর আগে, দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ি মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে আরেকটি নির্বাচনি জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের প্রার্থীদের মধ্যে কোনো ব্যাংক ডাকাত, চাঁদাবাজ বা মামলাবাজ নেই।’ তিনি দাবি করেন, দুর্নীতিমুক্ত ও চরিত্রবান প্রার্থী বাছাই করেই এই জোট গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরা দুর্নীতি করব না এবং কোনো দুর্নীতিবাজকে প্রশ্রয় দেব না। সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। জুলাই সনদ ও সংস্কারের সব প্রস্তাব বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের ভিত্তিতেই ১১ দল একত্রিত হয়েছে।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়; এটি জাতির মোড় ঘোরানোর নির্বাচন। বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে এই নির্বাচন এসেছে। তাই ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়ে নতুন পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ অন্য কোনো দেশের অনুকরণে নয়, হবে ‘‘উত্তম বাংলাদেশ’’। যেখানে প্রত্যেক নাগরিক গর্ব করে বলবে আমি বাংলাদেশি, আমিই বাংলাদেশ।’

নারী ও শিশু নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘কর্মজীবী মায়েদের জন্য বেবি কেয়ার ও ডে-কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা হবে। শিল্প ও ঘন এলাকায় বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে রাষ্ট্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে দমন নয়, বরং স্বতঃপ্রণোদিতভাবে দাবি পূরণ করবে।’

ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষ কিংবা প্রধানমন্ত্রী—অপরাধ করলে সবার জন্য একই আইন ও একই শাস্তি কার্যকর হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না।’

জনসভায় ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’। দ্বিতীয় ভোট দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক বাংলাদেশের জন্য ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায়।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button