Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
অন্তর্বর্তী সরকারবাংলাদেশসরকার

১ কোটি ৪৭ লাখ পরিবারকে মাসে ৪৫৪০ টাকা দেওয়ার সুপারিশ

দেশের দারিদ্রপীড়িত ১ কোটি ৪৭ লাখ পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তায় মাসে ৪ হাজার ৫৪০ টাকা দেওয়া, স্বাস্থ্য কার্ড এবং শিক্ষার জন্য যুবকদের ক্রেডিট কার্ড দেওয়ার সুপারিশ করেছে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। নাগরিক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ : আগামী সরকারের জন্য নাগরিক সুপারিশ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব সুপারিশ করা হয়।বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) গুলশানের একটি হোটেলে এই নাগরিক সুপারিশ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান নাগরিক প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে কর্মসূচি বিষয়ে সুপারিশ উপস্থাপন করেন। নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান।

বাংলাদেশ রিফর্ম ওয়াচ উদ্যোগের অংশ হিসেবে একটি নাগরিক ইশতেহার প্রস্তুত করেছে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। এই ইশতেহারে নাগরিক আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন নীতি ও বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট জাতীয় কর্মসূচির প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশের আটটি বিভাগীয় শহর ও ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক যুব কর্মশালায় অংশ নেওয়া ৩৫টি জেলার প্রায় দেড় হাজার নাগরিক ও তরুণের মতামত এবং ১৫০টিরও বেশি জাতীয় ও তৃণমূল সহযোগী সংগঠনের সুপারিশ মিলিয়েই এটি তৈরি করা হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নাগরিক কণ্ঠকে জোরালো করার উদ্দেশ্যে নাগরিক মতামতের প্রেক্ষিতে আগামী সরকারের জন্য সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশে যারা ন্যূনতম আয় করেন, তাদের জন্য একটি আয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পরিবারপ্রতি মাসে ৪ হাজার ৫৪০ টাকা দেওয়া যেতে পারে।

হিসাবে সূত্র হলো- চার সদস্যের একটি পরিবার বিবেচনায় ন্যূনতম চাহিদার ২৫ শতাংশ আয়কে ধরা হয়েছে, যাকে গ্যারান্টিযুক্ত আয় বলা হচ্ছে। সবাইকে না দিয়ে লক্ষ্যভিত্তিকভাবে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এখানে আর্থিক সক্ষমতার বিষয়ও রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রথম ধাপে খানা জরিপ অনুযায়ী অতি দারিদ্র্যপীড়িত ১১টি জেলার ২৮ লাখ মানুষকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এরপর দারিদ্রপীড়িত ৩৬টি জেলার ৮০ লাখ মানুষ এবং পরবর্তীতে সারাদেশে ১৪৭ লাখ পরিবারকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এটি কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, সেটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে।

হিসাব অনুযায়ী, ৩৬ জেলায় ফ্যামিলি কার্ডের জন্য খরচ হবে ৪০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তায় প্রায় ১৪০টি কর্মসূচি রয়েছে। সেগুলোর ব্যয় কমিয়ে ও পর্যায়ক্রমে কিছু কর্মসূচি বাদ দিয়ে এটি চালু করা যেতে পারে।সরকারি স্কুলের শিশুদের এক বেলা খাবার দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য এক বেলা খাবার দিতে ৮ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এটি শুরু করে পরবর্তীতে আরও সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।

এছাড়া যুব সমাজের জন্য ক্রেডিট কার্ডের প্রস্তাব করে তিনি বলেন, ফেরতযোগ্য এক লাখ টাকা পর্যন্ত ক্রেডিট কার্ড দেওয়া যেতে পারে, যা শিক্ষা কিংবা কর্মসংস্থানের কাজে ব্যবহার করা যাবে। যেমন- ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য ল্যাপটপ কেনা। এতে প্রায় ১৩৪ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

স্বাস্থ্য কার্ডের বিষয়ে তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রত্যেক পরিবারের জন্য এক লাখ টাকা মূল্যমানের স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অসুস্থ হলে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এটি ব্যবহার করা যাবে। ওষুধ কেনা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রেও এটি কাজে আসবে। বর্তমানে যারা ৬১ লাখ বয়স্কভাতা পাচ্ছেন, তাদের দিয়ে এটি শুরু করা যেতে পারে। এতে সর্বোচ্চ ব্যয় হবে ৬১ হাজার কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button