
সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫০ আসনের মধ্যে ৪৭টিতে অনিয়ম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আজ মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ কথা বলেন।
তিনি জানান, সংসদীয় নির্বাচনে ৫০টি আসন নিয়ে সার্ভে করা হয়। এগুলোর মধ্যে ৪৭টিতে অনিয়ম পাওয়া গেছে।
এসব অনিয়মে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন উল্লেখ করে বলা হয় যে জাল ভোট, ভোট কারচুপি ও কেন্দ্র দখলসহ বিভিন্ন অনিয়মে তারা নীরব ভূমিকা পালন করেছিলেন।
টিআইবি’র মতে, ৫০টি আসনের মধ্যে ৩৩টিতে “ভোটের আগের রাতে ব্যালট পেপারে ছাপ মারা হয়েছে” এবং ৩০টিতে “কেন্দ্র দখল করে ছাপ মারার” ঘটনা ঘটেছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘নির্বাচনের অনিয়ম দূর করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভুমিকা ছিল অতি নগণ্য। তারা সব দলের জন্য সমান পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি। এমনকি ইসি প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিরোধী প্রার্থীদের ওপর ক্ষমতাসীনদের বল প্রয়োগ করতেও দেখা গেছে।’
টিআইবি’র তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কমিশনের নির্দেশনার বাইরে অতিরিক্ত খরচ, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর নীরব ভুমিকা, জাল ভোট দেওয়া, নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটে সীল মেরে রাখা, বুথ দখল করে প্রকাশ্যে সীল মেরে জাল ভোট প্রদান, পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া ও কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, ভোটারদের জোর করে নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করা, ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া, আগ্রহী ভোটারদের হুমকি দিয়ে তাড়ানো, ব্যালট বাক্স আগে থেকে ভরে রাখা ও প্রতিপক্ষ দলের প্রার্থীর নেতা কর্মীদের মারধর করা।
বাংলাটিভি/পাইক



