
কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) প্রস্তাবিত “বাংলাদেশ জ্বালানি রূপান্তর নীতি-২০২৪” বাস্তবায়নে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
আলোচনা সভায় শিক্ষার্থীরা জ্বালানি সুবিচার ও খাতসংক্রান্ত নানা বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে উঠে আসে— জ্বালানি সরবরাহে লুণ্ঠনমূলক ব্যয়, মূলাহার নির্ধারণে ভোক্তা অধিকার, জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ, সুবিচার সংকট, লাইসেন্স নিয়ন্ত্রণ, বিচার বিভাগের ভূমিকা এবং ইউটিলিটি সংস্থার সেবানীতি— ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বক্তারা কুইক রেন্টালসহ উচ্চ খরচের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধের দাবি জানিয়ে বলেন, জ্বালানি অপরাধ, দারিদ্র্য, অধিকার, সুবিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাবের প্রস্তাবিত নীতি বাস্তবায়ন সময়ের দাবি। নীতিতে জ্বালানি খাতকে বাণিজ্যিক নয়, বরং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সেবা খাত হিসেবে পুনর্গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন,“জ্বালানি খাতের অবিচার দূরীকরণে আমরা হাইকোর্টে অন্তত ১৫টি মামলা দায়ের করেছি। তরুণ সমাজ এগিয়ে এলে জ্বালানি সুবিচার বাস্তবায়ন সহজ হবে। অদক্ষতা ও অপচয়ের কারণে লুণ্ঠনমূলক ব্যয় বাড়ছে, অথচ কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই।”
ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজিমউদ্দীন খান বলেন, “আমাদের জ্বালানি কাঠামো বিদেশি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে না। দেশীয়-বিদেশি গোষ্ঠীর লুণ্ঠন বন্ধ না হলে এই খাত দুর্নীতিমুক্ত হবে না।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের (বিইপিআরসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন এনডিসি বলেন, “ভোক্তার অধিকার প্রতিষ্ঠায় ক্যাবের সাথে কাজ করতে চাই। তবে ভর্তুকি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বদলে ক্ষমতাশালীরা বেশি পাচ্ছেন। কুইক রেন্টাল প্রকল্প অতীতে জরুরি ছিল, তবে এখন তা অপ্রয়োজনীয় হলেও কোম্পানির চাহিদায় টিকে আছে।”
সভাপতির বক্তব্যে ক্যাবের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মঞ্জুর-ই-খোদা তরফদার বলেন,“বাংলাদেশও জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এটি ভোক্তাবান্ধব, সাশ্রয়ীমূল্যের ও পরিবেশসম্মত হওয়া জরুরি। সেই লক্ষ্যেই ক্যাব দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে এবং এ নীতি প্রস্তাব করেছে।”
উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর থেকে ক্রেতা অধিকার রক্ষায় জাতীয় নাগরিক সংগঠন হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে ক্যাব।
এসআর/বাংলা টিভি



