যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ইসরায়েলজুড়ে বিক্ষোভ, ধর্মঘটে অচল সারাদেশ

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধ ও বন্দি থাকা জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে ইসরায়েলজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছে। আজ রোববার সকাল থেকে সারাদেশের সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। ইসরায়েলের অনেক জায়গায় বিক্ষোভকারীরা যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। ধর্মঘটের কারণে সারাদেশে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে জিম্মিদের মুক্তির দাবি করে আসছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। এজন্য প্রয়োজনে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধও করতে বলছেন তারা। কিন্তু তাদের দাবিকে তোয়াক্কা না করে চলতি মাসের শুরুতে গাজা উপত্যকার গাজা সিটি দখল করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ইসরায়েল সরকার। এরপরই সাধারণ ইসরায়েলিরা আজ রোববার (১৭ আগস্ট) দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দেন। সেই অনুযায়ী বিক্ষোভ করছেন লাখো ইসরায়েলি।
অক্টোবর কাউন্সিলের পক্ষ থেকে শনিবার রাতে বলা হয়েছে, রোববার তেল আবিবের জিম্মি চত্বরে ১০ লাখের বেশি মানুষের সমাগম করা হবে। এছাড়াও ইসরায়েলজুড়ে বিক্ষোভে হাজার হাজার লোক যোগদান করবে।
হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের বিখ্যাত অভিনেত্রী গ্যাল গ্যাদত তেল আবিবের জিম্মি চত্বরে আসেন। এ সময় তিনি জিম্মি পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। হামাসের হাতে বন্দি মাতানের মা ইনাভ জানগাওকের সঙ্গে কথা বলেন গ্যাল গ্যাদত।
জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের পুলিশ জানিয়েছে, আজ রোববার সারাদেশে অন্তত ৪৩ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। রাস্তা আটকে যান চলাচল বন্ধ করে চলাচল বাধাগ্রস্ত করায় তাদের আটক করা হয়েছে। এরমধ্যে ১১ জনকে তেল আবিববের আইলান সড়ক থেকে তাদের আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেছেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং চলাচলের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করায় বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিব থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বিক্ষোভকারীরা জেরুজালেম থেকে তেল আবিব পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন।
পুলিশ দাবি করেছে, তারা বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে মহাসড়কের দিকে যাওয়া বেশিরভাগ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পেরেছে। তবে জেরুজালেমের রুট ১৬ নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা তারা এখনো আটকে রেখেছে।
সাধারণ ইসরয়েলিদের বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়েছেন ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ। তিনি জেরুজালেমের জিম্মি স্কোয়ারে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে এসেছেন। লাপিদ বলেছেন, জিম্মিরা কোনো বন্ধকী জিনিস নয় যে, তাদের পরিত্যাগ করে সরকার যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। জিম্মিদের গাজা থেকে মুক্ত করে আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।



