
শক্তিশালী ভূমিকম্পে মিয়ানমারে এক হাজারের বেশি লোকের প্রাণহানির ঘটনায় সমবেদনা জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দেশটিকে জরুরি মানবিক সহায়তা হিসেবে ১শ’ মিলিয়ন ইউয়ান (১৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে চীন সরকার। সোমবার থেকে মিয়ানমারে সহায়তা পাঠানো শুরু হবে।
বেইজিং থেকে এএফপি এ খবর জানায়।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মিয়ানমারের জান্তা সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইংকে লেখা এক বার্তায় শি জিনপিং ‘গভীর দুঃখ’ প্রকাশ করেছেন এবং তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
গতকাল শুক্রবার মিয়ানমারের সাগাইং শহরের উত্তর-পশ্চিমে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কয়েক মিনিট পরেই ৬ দশমিক ৪ মাত্রার একটি আফটারশক হয়।
ভূমিকম্পে মিয়ানমারের বিভিন্ন স্থানে ভবন, সেতু ও রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়েও মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইউনান প্রদেশ ও থাইল্যান্ডের কিছু অংশেও এর প্রভাব পড়েছে। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ৩৩ তলা ভবন ধসে পড়ার পর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে ১শ’ জন শ্রমিক আটকা পড়েছেন।
চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিন অং হ্লাইং বৈদেশিক সাহায্যের বিরল আবেদনের পর শনিবার তারা মিয়ানমারে ৮২ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে।
চীনের জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের ইউনান থেকে একটি পৃথক উদ্ধারকারী দল মিয়ানমারের বাণিজ্যিক কেন্দ্র ইয়াঙ্গুনে পৌঁছেছে।
মিয়ানমারে আঘাত হানা ভূমিকম্পে চীনে প্রভাব পড়লেও কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ত্রাণবাহী বিমান পাঠাল ভারত
ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মিয়ানমারে ত্রাণবাহী একটি বিমান পাঠিয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। ভূমিকম্পের একদিন পর শনিবার বিমানটি মিয়ানমারে অবতরণ করেছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর মিয়ানমারের জান্তা সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং বৈদেশিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে। দেশটির পূর্ববর্তী সামরিক শাসকরা বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরেও বিদেশি সহায়তা এড়িয়ে গেছেন। এবার এই সাহায্যের আবেদন দুর্যোগের তীব্রতা প্রকাশ পাচ্ছে।
ভূমিকম্পের আঘাতে দেশটিতে নিহতদের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। আহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৪শ’ জন।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বলেছেন, স্বাস্থ্যবিধি সরঞ্জাম, কম্বল, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে একটি সি-১৩০ সামরিক পরিবহণ বিমান মিয়ানমারে পাঠানো হয়েছে। সাথে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল এবং চিকিৎসক দলও এই বিমানে রয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাব এবং প্রয়োজনে আরো সাহায্য পাঠানো হবে।’
ত্রাণের বিমানটি মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনে অবতরণের পর সেটির একটি ছবি প্রকাশ করেছে জয়শঙ্করের মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মিয়ানমারের বিভিন্ন স্থানে অনেক ভবন ধস, সেতু ও রাস্তাঘাটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়েও মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিকদের মতে, এটি গত এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর মিয়ানমারে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প।
মিয়ানমারে আঘাত হানা এই ভূমিকম্প এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, এর কেন্দ্রস্থল থেকে শত শত মাইল দূরে ব্যাংকক শহরও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।




