ইউক্রেন যুদ্ধ বৈশ্বিক মনোযোগ আকর্ষণ করায় রোহিঙ্গা পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে: প্রধানমন্ত্রী

ইউক্রেন যুদ্ধ ও সেখানকার শরণার্থীরা, বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকট থেকে মনোযোগ সরিয়ে, বিশ্বের আকর্ষণ করেছে,যা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তিনি বলেন,মিয়ানমার তাদের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক নয়।
কাতারের দোহায় স্বল্পোন্নত দেশসমূহের ৫ম জাতিসংঘ সম্মেলনের (এলডিসি ৫)ফাঁকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিস্থিতি এবং সেখানে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎসহ বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে বুধবার (৮ মার্চ)কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সঙ্গে সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।সম্মেলনে যোগ দিতে গত ৪ মার্চ কাতারে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।আল জাজিরার সাংবাদিক নিক ক্লার্ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাৎকারে বলেন,ঢাকা সমস্যা সমাধানে আলোচনায় নিয়োজিত থাকলেও মিয়ানমার তাদের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ইতিবাচক নয়।
শেখ হাসিনা বলেন,বাংলাদেশ মানবিক কারণে মিয়ানমারে নিপীড়ন, হত্যা ও ধর্ষণের শিকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে।
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাম্প্রতিক অগ্নিকান্ড এবং পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন,মিয়ানমারে যখন রোহিঙ্গা নিপীড়ন শুরু হয়,রোহিঙ্গারা নির্যাতন,হত্যা ও ধর্ষণের শিকার হয় তখন আমরা তাদের জন্য দু:খ অনুভব করেছি।এরপর আমরা সীমান্ত খুলে দিয়েছি,আমরা তাদের আসতে দিয়েছি।এছাড়াও,আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের সকলের জন্য আশ্রয় ও চিকিৎসা দেই।
তিনি আরও বলেন, ‘পাশাপাশি আমরা মিয়ানমারের সঙ্গেও কথা বলতে শুরু করি। আমরা তাদের বলি, আপনারা তাদেরকে (রোহিঙ্গা) ফিরিয়ে নিন। দুর্ভাগ্যক্রমে তারা ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে না। রোহিঙ্গাদের নিজেদের দেশে ফিরে যেতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। কিন্তু এটা সত্যিই খুব কঠিন। আমরা তাদের জন্য আলাদা জায়গায় থাকার ব্যবস্থা করেছি। ভাসান চর একটি ভালো জায়গা, থাকার জন্য ভালো জায়গা… আমরা সেখানে শিশুদের জন্য ভালো থাকার ব্যবস্থা এবং চমৎকার সুবিধার ব্যবস্থা করেছি।’
রোহিঙ্গা শিবিরে জীবনযাত্রার পরিস্থিতি এবং আগুনে ১২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গার আশ্রয় হারানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসলে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। তারা (রোহিঙ্গারা) একে অপরের সাথে লড়াইরত। তারা মাদক, অস্ত্র ও মানব পাচারসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্মে জড়িত। তারা নিজেদের মধ্যে সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে।’



