Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
অন্যান্যবাংলাদেশ

তেঁতুলতলাই থানার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীর কলাবাগানে তেঁতুলতলা মাঠে থানা নির্মাণ করা হবে না। বিকল্প জায়গা খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।বুধবার (২৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

এর আগে সোমবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর তেজগাঁও সরকারি বিজ্ঞান কলেজ প্রাঙ্গণে ঈদ উপলক্ষ্যে দরিদ্রদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একই কথা বলেছিলেন।

ওই দিন তিনি থানা ভবন করার জন্য রাজধানীর কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠ বাদ দিয়ে বিকল্প জায়গা খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠ জেলা প্রশাসকের চিহ্নিত করা একটি খাস জমি হওয়ার কারণেই সেখানে থানা ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মাঠেরও প্রয়োজন আছে খেলাধুলার জন্য। সে কারণে থানা ভবন করার জন্য বিকল্প জায়গা খুঁজে বের করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়রকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদি না পাওয়া যায় তাহলে আলোচনার মাধ্যমে থানা ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে রাজধানীর কলাবাগানে তেঁতুলতলা মাঠে থানা ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদের মুখে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই মাঠে কলাবাগান থানা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। মাঠের জমি ২৭ কোটি টাকায় ক্রয় করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন একথা জানান।

ডিসি বলেন, সরকার ডিএমপিকে দেশের প্রচলিত সব আইন কানুন মেনে এই জমি বরাদ্দ দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ডিএমপি কোনো ব্যক্তির বা সংস্থার জমিতে বেআইনিভাবে থানা ভবন নির্মাণ করছে না।

গত ৩১ জানুয়ারি মাঠটিতে তারকাঁটার বেড়া দিয়ে বেষ্টনী তৈরি করে পুলিশ। খেলার মাঠ হিসেবে পরিচিত জায়গাটি কলাবাগান থানা ভবন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে থানা ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন এলাকাবাসী। তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষার অন্যতম আন্দোলনকারী ও সমাজকর্মী সৈয়দা রত্না এবং তার ছেলে ঈসা আব্দুল্লাহকে আন্দোলনরত অবস্থায় গত ২৪ এপ্রিল সকালে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। সারা দিন তীব্র প্রতিবাদের মুখে মধ্যরাতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এই মাঠ রক্ষায় এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ ও বিশিষ্টজনেরাও প্রতিবাদ ও মানববন্ধন চালিয়ে যাচ্ছেন সেখানে। তারা দাবি করছেন, খেলার মাঠে থানা ভবন করা যাবে না। আর যদি করতে হয়, তাহলে বিকল্প খেলার মাঠের ব্যবস্থা করতে হবে।

বিকল্প খেলার মাঠের ব্যবস্থা করার বিষয়টি ডিএমপির এখতিয়ারভুক্ত নয় জানিয়ে ডিসি ফারুক ডিএমপির পক্ষ থেকে পরামর্শ দেন, প্রস্তাবিত থানার জায়গা তেঁতুলতলা মাঠ থেকে কিছু দূরে কলাবাগান মাঠ রয়েছে। সেখানে বাচ্চাদের খেলাধুলাসহ সামাজিক অনুষ্ঠান করার সুযোগ রয়েছে।

জনস্বার্থে কলাবাগান থানার জন্য ধানমন্ডি মৌজার শূন্য দশমিক ২০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইনের সব বিধি-বিধান অনুসরণ করা হয়েছে। ওই জমি সরকারি সম্পত্তি ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন।

ডিসি জানান, কলাবাগান থানার ওই জমি অধিগ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। সরকারি প্রয়োজনে ও জনস্বার্থে রাজউকের কোনো আপত্তি নেই মর্মে ছাড়পত্র পাওয়া গেছে। মাঠের জায়গাটি প্রস্তাবিত ভূমি ব্যবহার আরবান রেসিডেনসিয়াল জোন হিসেবে চিহ্নিত থাকায় নগর উন্নয়নের ছাড়পত্র এবং সরকারের প্রচলিত আইন ও নীতি অনুযায়ী অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদফতরের অনাপত্তিপত্র পাওয়া গেছে।

বাংলাটিভি/জাবেদ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button